বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে জামালপুরের কাঁচামরিচ

জামালপুরের উৎপাদিত মরিচ রপ্তানি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। দিন দিন চাহিদা বৃদ্ধি, স্বাদ, পুষ্টি ও গন্ধে অনন্য হয়ে উঠছে এই মরিচ। আবাদ কম হলেও বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। বিদেশে এই মরিচের চাহিদা বেশি থাকায় রপ্তানিতে সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা। উৎপাদন ও বাজার আরও বড় করতে কৃষক-উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
মরিচ গাছের গাঢ় সবুজে এক অপূর্ব দৃশ্যে মোহিত হয়ে উঠেছে জামালপুরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। চরভূমিতে ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর অপেক্ষার ফল হিসেবে কষ্টে ফলানো মরিচ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। বৈরী আবহাওয়ায় এবার মরিচের আবাদ ও ফলন কম। তবে স্থানীয় বালিজুরি ও হাইব্রিড মরিচ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় কিছুটা দাম বেশি পেয়ে খুশি চাষিরা।
জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজার থেকে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে কর্মব্যস্ততা। মাঠ থেকে প্রতি কেজি মরিচ চলমান বাজার দর থেকে ৪-৫ টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করছেন পাইকাররা। পরে মোড়কজাত করে চট্টগ্রাম পোর্ট দিয়ে পাঠানো হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। প্রতি কার্টুনে থাকছে ৯ কেজি মরিচ।
এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭০০ টন মরিচ। সাধারণ বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২৮ টাকা হলে বিদেশের বাজারের জন্য প্রতি কেজি মরিচের দাম দেওয়া হচ্ছে ৩৪ টাকা। এতে জামালপুরের কৃষক এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
রপ্তানি হওয়ায় দেশে আসছে ডলার আর প্রান্তিক কৃষক দেখছেন লাভের মুখ। মালয়েশিয়ার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সঠিক মানের মরিচ দেওয়া গেলে এই পণ্যের সম্ভাবনার কথা জানান একজন উদ্যোক্তা।
কৃষক আমিনুল রহমান বলেন, এই বছর আমাগো ভালো উৎপাদন হয় নাই। বৃষ্টিতে গাছ মরে গেছে, তবে দাম এখন একটু যাচ্ছে। এখন আবার শোনতাছি বিদেশে বলে রপ্তানি হবো; তাহলে তো আমাদের জন্য ভালোই হবো; দাম পাবো এখন একটু।
কৃষক নাহিদ ইসলাম বলেন, দিনে দিনে সারের দাম ভাইরা যাইতেছে, ফলন বেশি না হলে খরচও উঠে না। এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে দাম ও মোটামুটি হয়তাছে, খরচ উঠবো ইনশাআল্লাহ এবার ।
এই সম্ভাবনাময় ফসলের বাজার আরও বড় করতে কৃষকদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার কথা জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মালয়েশিয়াতে কিছু কোম্পানির মাধ্যমে আর কিছু এক্সপোর্টের মাধ্যমে মাদারগঞ্জ আর জামালপুর থেকে মরিচ রপ্তানি করছে। এতে আমাদের কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। লোকাল বাজার থেকে তিন থেকে চার টাকা বেশিতে কিনে নিচ্ছে এক্সপোর্টার। আবার তারা যে বিদেশে বিক্রি করছেন তারা আবার আমাদের দেশে ডলার আনছেন। যাতে কৃষকের পণ্যটি মানসম্পন্ন, গুণগত মান এবং এক্সপোর্টেবল যাতে হয় সে বিষয়গুলো আমরা কৃষি বিভাগ থেকে দেখব।
জেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমি। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৬২ টন।