logo

যানজট আর খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তির নগরী নারায়ণগঞ্জ

যানজট আর খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তির নগরী নারায়ণগঞ্জ

ব্যস্ত নগরী নারায়ণগঞ্জ এখন যেন যানজট আর বিশৃঙ্খলার আরেক নাম। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ঘণ্টারও বেশি। নিয়ম-নীতি ছাড়াই চলছে নানা ধরনের যানবাহন, শৃঙ্খলার অভাব আর অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়ছে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা। সড়কে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য, ফুটপাত দখল করে হকারদের দোকান, তার ওপর সিটি করপোরেশনের ধীরগতির ড্রেনেজ সংস্কার। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে নগরবাসী।

শহরজুড়ে ডিপ ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে রাখা হয়েছে, যা যান চলাচলকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি থাকে। ফলে রমজানে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং রোজাদারদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

অফিসগামী এক পথচারী বলেন, আমার বাসা বন্দরে, আমি প্রতিদিন অফিসে যাই বন্দর ঘাট পার হয়ে। সেখান থেকে আমার অফিসের দূরত্ব ১০ মিনিটের, কিন্তু আমার প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হয়। ১০ মিনিটের পথ কখনো আধাঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তাই সময়মতো অফিসে যেতে পারি না।

এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে আছে। তার সঙ্গে অবৈধ অটোরিকশা তো রয়েছেই, তাদের জন্য রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়া যায় না। 

শুধু সড়কেই নয়, ফুটপাতেও স্বস্তি নেই। ফুটপাতের সামান্য হাঁটার জায়গা দখল করে বসেছেন হকাররা। মাফিয়া নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি প্রাইভেট পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছি, আমার বাসা পঞ্চবটি, কিন্তু চাষাড়া শহরে আসতে আমার প্রায় এক ঘণ্টা লেগে গেছে। আমি রোজা রেখেছি, আমার এইভাবে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

এক রিকশাচালক বলেন, ‘আগে যেখানে আধা ঘণ্টায় যাইতাম, ওইখানে এখন যেতে দেড়-দুই ঘণ্টা সময় লাইগা যায়। তাই যাত্রীও কম পাচ্ছি, আয়ও কমে গেছে।’

তবে নগরীতে পর্যাপ্ত সড়ক না থাকা যানজটের মূল কারণ বলে মনে করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, আমাদের সাধারণ ট্রাফিক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ তো রয়েছেই, তাছাড়া রমাজন উপলক্ষে যাতে মানুষ সময়মতো ঘরে ইফতার করতে পারে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে। যানজট নিরসনের বিকেএমইএ থেকে ১০০ জন এবং সিটি করপোরেশন থেকে ৫০ জনসহ আমাদের পুলিশের পাশাপাশি আরও ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করবে। আশা করছি এতে করে যানচলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, চাষাড়ার যে মোড়টি আছে, সেখানে যানজট সবসময়ই লেগে থাকে, জনগণের জন্য একটু ভোগান্তির কারণ। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। পুলিশ, সিটি করপোরেশন এবং বিকেএমইএসহ অন্যান্য যে সংগঠন রয়েছে, তাদের যে স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। তার সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিভিন্ন অভিযান চলবে, যাতে করে নারায়ণগঞ্জে যানচলাচলের রাস্তাগুলো সচল থাকে। 

তিনি আরও বলেন, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। ফুটপাতগুলোতে অবৈধ হকার রয়েছে এবং সড়কে অটোরিকশার পরিমাণ অনেক বেশি, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সিটি করপোরেশনের সরকারি রাস্তা উন্নয়নের কাজ। আশা করছি কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে।