আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী-এমপিসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও যশোর পৌর সভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল ইসলাম রাজীবকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য রঞ্জিত রায়, সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম ও সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলী।
এছাড়া যুবলীগ নেতা অশোক বোস, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আতিকুর বাবু ওরফে জার্মান বাবু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট সকালে যশোর শহরের কাজীপাড়া-কাঠালতলা এলাকায় পালোয়ান বাড়ি যাওয়ার সড়কে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী ও নাশকতামূলক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পুলিশের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিছিলটি আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা ‘জাতীয় শোক দিবস’ লেখা একটি ব্যানার ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ব্যানারটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানিয়েছেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


