logo
Advertisement

ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় চা দোকানিকে গণপিটুনি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
চাঁদপুর, চট্টগ্রাম
ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় চা দোকানিকে গণপিটুনি
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন সরদার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের পর মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোবারক হোসেন সরদার (৫২) নামে এক চা দোকানিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের লেজাকান্দি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত মোবারক ওই এলাকার হোসেন আলী সরদারের ছেলে। মোবারক পাঁচ সন্তান সন্তানের জনক। এলাকায় তার চা-বিস্কুট ও রুটির দোকান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে মোবারক কৌশলে ওই কিশোরীকে ডেকে তার বসতঘরে নিয়ে যায়। ওই সময় ঘরে তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সেই সুযোগে তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং নিজের মুঠোফোনে গোপনে সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখেন। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে তিনি ওই কিশোরীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরবর্তীতে তিনি থেকে চারদিন আগে মোবারক নিজেই ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ঘটনাটি এলাকাজুড়ে জানাজানি হয়।

বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর বাড়িতে এক সালিস বৈঠক বসে। সেখানে মোবারক নিজে উপস্থিত না হলেও তার পক্ষের কয়েকজন লোক হাজির হন। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই সালিস বৈঠক শেষ হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মোবারক ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে নানা হুমকি দেন এবং দেখে নেওয়ার কথা বলেও শাসান—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এ সময় খবর পেয়ে আশপাশের ক্ষুব্ধ লোকজন জড়ো হয়ে মোবারককে গণপিটুনি দেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, এ ঘটনায় তার মেয়ের জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযুক্ত মোবারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নঈমুল ইসলাম রাজিব বলেন, আহত মোবারকের মাথায় ও শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, শুক্রবার দুপুরে মোবারককে এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।