নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে : তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা চলে গেছে। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা যায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে মহানগর বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।
তারেক রহমান বলেন, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। কোনোভাবেই গণতন্ত্রের ঝান্ডা যাতে নেমে যেতে না পারে। আমরা শান্তি চাই। আমরা ঝগড়া-বিবাদের মধ্যে যেতে চাই না। আমি কারও সমালোচনায় যেতে চাই না। কিন্তু কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে, আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত করুন। আমরা সহযোগিতা করব। অবশ্যই সঠিক তদন্ত করে দেশের আইনে বিচার হতে হবে।
তিনি বলেন, ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যখন মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তখন আমরা কেউ দেখিনি কার কোন ধর্ম। ২০২৪ সালে আগস্টে স্বৈরাচারকে বিদায় করার জন্য দেশের মানুষ যখন রাজপথে নেমে এলো তখনও আমরা দেখিনি কার কোন ধর্ম। আজ দেশ গঠনের, গণতন্ত্রকে রক্ষার সময় এসেছে। আজ আমরা ধর্ম দেখতে চাই না। আমরা দেখব ভোটার, বাংলাদেশি, শান্তিতে বিশ্বাসী কি না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী।
নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, আমি-ডামির নির্বাচন দেখেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেননি। তারা চলে গেছেন, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, বাধাগ্রস্ত করা যায়।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আপনারা প্রত্যেককে বলবেন আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে। সেজন্য সবাইকে সতর্ক, সজাগ থাকতে হবে। ১২ তারিখ আমরা যদি সজাগ থাকি, ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কাজগুলো ধীরে ধীরে শুরু হবে। ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা। শহীদ জিয়া দেশ গড়েছেন। খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন। এখন আমাদের সবার পালা দেশ গড়ার। কারণ, এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম এবং এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। করব কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
এ সময় তিনি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ১৩ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ তুলে দেন এবং ধানে শীষ প্রতীকের জন্য ভোট চান।
ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এদের হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিয়ে গেলাম। আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে ১২ তারিখ পর্যন্ত এদেরকে দেখে রাখা। ১২ তারিখে যখন ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনবেন, ১৩ তারিখ থেকে এদের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাদেরকে দেখে রাখা। এরা হচ্ছে সব ধানের শীষের প্রার্থী।