গাজীপুরে ১২ কিলোমিটার থেমে থেমে যানজট

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে গাজীপুরের দুই মহাসড়কে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। তবে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনালের আশপাশের ১২ কিলোমিটার থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরের গাজীপুরের ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হবে। এরপরই যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ থাকলেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও মহাসড়ক ঘেঁষা কারখানাগুলোর সামনে বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
ঢাকা টাঙ্গাইল ও নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ বাস ভর্তি করে আসছে৷ ওই সকল বাসে চন্দ্রা কেন্দ্রীক যাত্রী তোলার সুযোগ কম। এ সকল এলাকার যাত্রীদের বহন করার জন্য মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য পরিবহন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ সকল পরিবহনের অধিকাংশই কারখানা শ্রমিকদের আগে হতে রিজার্ভ করে রাখা। এ সকল পরিবহনগুলোর জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও চন্দ্রা এলাকায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা হতে ঘরমুখো মানুষ জড়ো হওয়ায়, যাত্রী তুলতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা যায়, বুধবার দুপুরে শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের প্রায় দুই হাজার পোশাক কারখানা তৃতীয় ধাপে ছুটি ঘোষণা হবে। এরপরই যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে। এ ছাড়াও গতকাল মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছিল। অনেকেই গতকাল রওনা না হয়ে আজ সকালে রওনা হয়েছে।
রফিকুজ্জামান নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় চন্দ্রা ফ্লাইওভারের নিচে। তিনি বলেন, গতকাল আমার কারখানা ছুটি হয়েছে। তবে আমি গতকাল বের হয়ে আজ সকালে রওনা হয়েছি। যানজট থাকলেও পরিবহনের সংকট নেই। দরদাম করে যে কোনো একটি গাড়িতে বাড়ি চলে যাব।
কারখানা ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে ছোটবড় প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে৷ এবারের ছুটি ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার অধিকাংশ কারখানা ছুটি হবে। সর্বশেষ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হবে।
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, গতকাল হতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। আজ দুপুরের পর চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়বে৷ মহাসড়কের পাশে অসংখ্য গাড়ি শ্রমিকরা ভাড়া করে রেখেছেন, এর কারণেই চাপ সৃষ্টি হয়েছে।