logo

প্রতারণার ফাঁদে গরু ব্যবসায়ীরা: ৯৯৯ নম্বরে পুলিশের সহায়তা চাইলেন অভিযুক্তরাই

প্রতারণার ফাঁদে গরু ব্যবসায়ীরা: ৯৯৯ নম্বরে পুলিশের সহায়তা চাইলেন অভিযুক্তরাই
আটক দুইজন হলেন, মো. বেলাল হোসেন এবং মো. রিপন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমে স্বাভাবিকভাবে হাট থেকে ট্রাকভর্তি গরু কিনতেন তারা। কয়েকটি হাটে নিয়মিত লেনদেনের মাধ্যমে গরু ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করেন। কিছু গরু বাকিতে নিয়ে পরদিন ব্যাংকের মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধও করেন। তবে শেষ পর্যন্ত বড় অংকের টাকা বাকিতে গরু নিয়ে টালবাহানা শুরু করলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ব্যবসায়ীরা। পরে কৌশলে ডেকে এনে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর হাতিয়া বাজারে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন গরু ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম। আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিপন। মামলার অপর আসামি ও চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বেলাল ও রিপন হাতিয়া বাজারে গরু কিনতে আসেন। তারা নিজেদের ঢাকা সেনানিবাসে গরুর মাংস সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দেন। প্রথম দিন এক ট্রাক গরু কিনে নিয়ে যান। পরে ১৬ মে আবার এসে দুই ট্রাক গরু কেনেন। ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের জন্য কিছু গরু বাকিতে নিয়ে পরদিন ব্যাংকের মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করেন।

এরপর তারা সাতজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৫২ লাখ টাকার গরু কিনে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে চলে যান। পরদিন সকাল থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এতে সন্দেহ হলে ব্যবসায়ীরা আরও গরু দেওয়ার কথা বলে তাদের আবার হাতিয়া বাজারে ডেকে আনেন এবং আটক করেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নিজেরাই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

মামলার বাদী আবুল কালাম বলেন, পুরো বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা। প্রথমে বাকিতে গরু নিয়ে টাকা পরিশোধ করে আমাদের বিশ্বাস অর্জন করে। পরে বড় অংকের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করে। সেনানিবাসে মাংস সরবরাহের কথা বলায় আমরা তাদের বিশ্বাস করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমি ছাড়াও আরও ছয়জন ব্যবসায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পাব। আমরা সবাই এখন অসহায় অবস্থায় আছি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের হাতিয়া বাজার এ অঞ্চলের অন্যতম দেশীয় বড় গরুর বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে এসে ট্রাকভর্তি গরু কিনে নিয়ে যান।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।