জাহাজ চলা যমুনায় নৌকা চলতেই কষ্ট
-1772844479-5961_1772844626.webp)
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এ কারণে ক্ষীণ হয়ে এসেছে চলাচলের জায়গা। এ ছাড়া নদীর মাঝে নতুন নতুন চর জেগে ওঠায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে যমুনায় নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এখন প্রস্থ দুই কিলোমিটার। যা বর্ষায় থাকে প্রায় সাড়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। যমুনায় পানি কমে যাওয়ায় নদীর বুকজুড়ে জেগে ওঠা চরে এখন বোরো ধান, ভুট্টা, খেসারি, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যমুনা নদীতে নেমে আসে বালু। ফলে প্রতি বছর নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বর্ষায় যমুনার পানি ফুলে-ফেঁপে পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়া নৌপরিবহনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
প্রতি বছর যমুনার তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য। একসময় দূর-দূরান্ত থেকে নৌপথে সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও চৌহালীতে ব্যবসায়ীরা আসতেন। সেই দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না। পানি কমে নতুন নতুন চর ওঠার কারণে চৌহালী থেকে এনায়েতপুর নৌঘাট হয়ে জেলা সদরে যাতায়াতে শ্যালো নৌকায় এক ঘণ্টার বদলে এখন প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। শ্যালো নৌকা চলছে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার ঘুরে। আর জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।
চৌহালী উপজেলার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অগণিত মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরাঞ্চলের অসংখ্য ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন যমুনা হয়ে লেখাপড়া করতে যায়। কিন্তু জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে একদিকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে নদী পার হতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে সময়।
সিরাজগঞ্জ কোর্টে চত্বরে কথা হয় চৌহালী থেকে আসা সবুজ আকন্দের সঙ্গে। তিনি বলেন, মামলাজনিত কারণে মাঝেমধ্যেই সিরাজগঞ্জ কোর্টে আসতে হয়। চৌহালী থেকে এনায়েতপুর নৌঘাট হয়ে জেলা সদরে আমাদের যাতায়াতে করতে হয়। যমুনা নদীতে এখন পানি না থাকায় শ্যালো নৌকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চৌহালী থেকে এনায়েতপুর নৌঘাট হয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে এক ঘণ্টার জায়গায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। দেরি করে কোর্টে আসলে কোনো কাজই হয় না। তাই একদিন আগে এসে শহরে একটি হোস্টেলে ৫০০ টাকা রুম ভাড়া নিয়ে রাতে ছিলাম। এতে আমাদের একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
এনায়েতপুর নৌকা ঘাটের মাঝি সাগর হোসেন বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীতে নৌ চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে চলাচলে কোনো সমস্যা হয় না। এখন নদীতে পানি না থাকায় এনায়েতপুর থেকে চৌহালীতে যেতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। এতে আমাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ডিজেল খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। তারপরেও অনেক জায়গায় পানি নাই, যার কারণেও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।
এনায়েতপুর নৌকা ঘাটের ইজারাদার ইউসুফ আলী বলেন, যেভাবে নদীর পানি কমছে, তাতে নৌকা চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এখন ড্রেজিং করে নৌপথ তৈরি করা না হলে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে জেলা সদরের সঙ্গে নৌপথে চৌহালীর যাবতীয় যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, নদী খনন ও নাব্যতা সংকটের বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর আওতাধীন। তারাই এ বিষয়ে কী করণীয় বলতে পারবে। আমরা শুধু ভাঙনের বিষয়টি দেখি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিআইডব্লিউটিএ সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালককে (হিসাব বিভাগ) একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।