‘সারা দিনে অন্তত ১০-১২ বার বিদ্যুৎ গেছে’

‘আজ সারা দিনে অন্তত ১০-১২ বার বিদ্যুৎ গেছে। এমনিতে প্রচণ্ড গরম। কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একবার গেলে আধা ঘণ্টার আগে আসে না। রান্নাবান্না পর্যন্ত করা মুশকিল হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি শেষ কবে দেখেছি ভুলে গেছি।’
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এশিয়া পোস্টকে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকার গৃহিনী নুর নাহার।
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন বলেন, ‘ভোর পাঁচটায় ঘুম ভেঙে গেল লোডশেডিংয়ের কারণে। সাতটা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা নেই। সকাল পৌনে নয়টায় আবার লোডশেডিং। বের হয়ে বাজার করে ১২টায় বাসায় ঢুকে দেখি তখনও লোডশেডিং।’
নুর নাহার ও জহির উদ্দিনের এই দশা চট্টগ্রামের প্রায় সব শ্রেণি পেশার মানুষের। দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছের নগরীর বাসিন্দারা। রাত নামলেই ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সংগ্রহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেকেই পানি সংকটে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম জোনের হিসাবে–১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল এক হাজার ৩৮৪ মেগাওয়াট; যা সন্ধ্যা সাতটায় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটে। বিপরীতে সরবরাহ ছিল সকাল ১১টায় এক হাজার ৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা সাতটায় এক হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট। এই হিসাবে লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ২৮১ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট।
চট্টগ্রামের (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে ছয়টি বন্ধ থাকায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ থাকা ছয়টি ইউনিট হলো–কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ২ (৪৬ মেগাওয়াট), ৩ (৫০ মেগাওয়াট) এবং ৫ (৫০ মেগাওয়াট) রাউজান-১ ও রাউজান-২—দুটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম এবং জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহের ওপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা পরিবর্তিত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং পরিস্থিতি এরচেয়ে অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।