নেত্রকোনায় ধর্ষণে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বহিষ্কার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এটা সিনিয়র নেতারা করতে পারেন। তাই আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।
এর আগে, বুধবার রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বকুলকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কারণে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ এবং বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বকুলকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং আরও অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। ওই বছরের ২০ নভেম্বর মেয়েটি স্কুল থেকে ফেরার পথে রফিকুল তাকে একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় এবং ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। একপর্যায়ে রফিকুলের সহযোগিতায় অন্যরাও তাকে ধর্ষণ করে।
১৮ আগস্ট অসুস্থ বোধ করলে মেয়েটিকে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে চিকিৎসকেরা জানান, মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে মেয়েটি দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে পানির ট্যাংকে ফেলে দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২৮ জুলাই রফিকুল একটি বাসায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়েটির পরিবারের ভাষ্য, ১ আগস্ট ছাত্রীটি চট্টগ্রামে বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তারা ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ভাবির কাছে ঘটনাগুলো খুলে বলে।
১৮ আগস্ট অসুস্থ বোধ করলে মেয়েটিকে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে চিকিৎসকরা জানান, মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে সে কেন্দুয়ার বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত মো. আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



