logo

বরিশাল/দেড় মাস বন্ধ উজিরপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা

দেড় মাস বন্ধ উজিরপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। চালক অবসরে যাওয়ার পর নতুন চালক নিয়োগ না দেওয়ায় গ্যারেজে পড়ে আছে হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি। এতে জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে নেওয়া ও মরদেহ পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে তাদের।

৫০ শয্যাবিশিষ্ট উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে একটি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটির একমাত্র চালক গত ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। এরপর থেকে নতুন চালক নিয়োগ না হওয়ায় বন্ধ রয়েছে সেবাটি।

গত ১৫ অক্টোবর সকালে উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী আলো বেগম অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে সংকটে পড়েন স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, রোগী পরিবহনের পাশাপাশি মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রোগীর স্বজনেরা বলেন, উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক মানুষ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের। তাদের পক্ষে জরুরি প্রয়োজনে বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় আর্থিক চাপের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু অ্যাম্বুলেন্সের চালক নয়, হাসপাতালের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুস শাকিব বলেন, হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চালক গত ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেবাটি বন্ধ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো চালক নিয়োগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া হাসপাতালের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।