মায়ের ২০ হাজার টাকায় শুরু, মাসে এখন বাঁধনের আয় ৪ লাখ টাকা

মায়ের কাছ থেকে নেওয়া ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাঁস পালন শুরু করেছিলেন মেহেরপুরের তরুণ উদ্যোক্তা বাঁধন। তিন বছরের ব্যবধানে তার খামারে এখন প্রায় এক হাজার হাঁস। পাশাপাশি, ইনকিউবেটর মেশিনে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তার দাবি, সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় চার লাখ টাকা মুনাফা হচ্ছে।
বাঁধন মেহেরপুর সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের সেলিম ও দিলরুবা দম্পতির ছেলে। তিনি মেহেরপুর সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই আগ্রহ থেকেই প্রথমে বাড়ির ছাদে বাজরিগার পাখি পালন শুরু করেন। তবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সেই উদ্যোগে সফল হতে পারেননি।
এরপর ব্রয়লার মুরগি পালনে যুক্ত হন বাঁধন। শুরুতে ব্যবসা ভালো চললেও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে লোকসানে পড়েন তিনি। পরপর দুটি উদ্যোগে ক্ষতির মুখে পড়েও হাল ছাড়েননি। নতুন করে কিছু করার চিন্তা থেকে হাঁস পালনের দিকে ঝোঁকেন।

বাঁধন জানান, ইউটিউবে হাঁস পালন করে সফল হওয়া কয়েকজন উদ্যোক্তার গল্প দেখে এ বিষয়ে আগ্রহী হন তিনি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে তিন বছর আগে মায়ের দেওয়া ২০ হাজার টাকা দিয়ে ১০০টি ‘পিকিং স্টার-১৩’ জাতের হাঁসের বাচ্চা কেনেন। এভাবেই শুরু হয় তার হাঁসের খামার।
ধীরে ধীরে খামারের পরিসর বাড়তে থাকে। বর্তমানে সেখানে প্রায় এক হাজার হাঁস রয়েছে। এর অধিকাংশই ডিম দিতে শুরু করেছে। হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য খামারের পাশে স্থাপন করেছেন ইনকিউবেটর মেশিন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেশিনটির বাচ্চা ফোটানোর ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ডিম। বর্তমানে সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন তিনি।
বাঁধনের ভাষ্য, প্রতি সপ্তাহে উৎপাদিত বাচ্চাগুলোর বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সব ধরনের পরিচালন ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় চার লাখ টাকা মুনাফা হচ্ছে তার। ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য নতুন করে পাঁচ হাজার হাঁসের খামার তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
বাঁধনের মা দিলরুবা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই পশুপাখির প্রতি ছেলের আগ্রহ ছিল। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থেকে সে প্রথমে বাজরিগার পাখি পালন শুরু করে। করোনার সময় সেখানে সফল হতে পারেনি। পরে মুরগি পালনের উদ্যোগেও লোকসান হয়। এরপর হাঁস পালনের জন্য ছেলেকে ২০ হাজার টাকা দেন তিনি।
দিলরুবা খাতুন বলেন, সেই ২০ হাজার টাকা থেকে বর্তমানে ৩০ লাখ টাকায় ঠেকেছে। তবে এই অঙ্কটি খামারের মোট বিনিয়োগ, সম্পদ, নাকি ব্যবসার বর্তমান মূল্য—তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
সন্তানদের চাকরির পেছনে ছোটার পাশাপাশি উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান দিলরুবা খাতুন।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মেহেরপুরে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি পালন করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে খামারিদের পশুপাখির পরিচর্যা, টিকা সরবরাহ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। হাঁস পালনেরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। খামারিদের সহযোগিতা ও সমস্যা সমাধানে প্রাণিসম্পদ দপ্তর পাশে রয়েছে।
