logo
Advertisement

ব্যবসায়ীর কাছে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ক্ষতিপূরণ বলছেন বিএনপি নেতা

ব্যবসায়ীর কাছে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ক্ষতিপূরণ বলছেন বিএনপি নেতা
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির ওরফে ঝনু। ছবি: এশিয়া পোস্ট

যশোরের শার্শা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামে তবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর ৩৫ বিঘা জমির মাছের ঘের জবরদখল এবং ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির ওরফে ঝনুর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দাবি—চাঁদা নয়, তাকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর ‘ক্ষতিপূরণ’ ও আইনি খরচের টাকা চাওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ঝনু স্বরুপদাহ গ্রামের জোহর আলী গাজীর ছেলে এবং ভুক্তভোগী তবিবুর রহমান একই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে (৫৪)।

ভুক্তভোগী তবিবুর রহমান জানান, একসময় হুমায়ুন কবির ঝনুর সাথে তার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হুমায়ুন অস্ত্রসহ ঢাকায় আটক হওয়ার পর তিনি তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। সে সময় জেল থেকে বের হয়ে আসার পর আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন।

তিনি আরও জানান, হুমায়ুনের কাছে ব্যবসায়িক হিসাবের প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা পাব। উল্টো সে আমার কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করছে এবং এলাকায় বসতে দিচ্ছে না। প্রাণের ভয়ে আমি এখন বাড়ি ছাড়া। আমার ৩৫ বিঘা জমির মাছের ঘেরটিও সে জবরদখল করে রেখেছে এবং আমাদের ঘেরে মাছ ধরতে দিচ্ছে না।

ভুক্তভোগীর বাবা ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের ঘেরে আমাদেরই জাল ফেলতে দেয় না ঝনুর লোকজন। এর মধ্যে আমরা জাল ফেললে জাল ছিনিয়ে নিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেয়।

তবিবুর রহমানের মা সহিতা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে বাড়িতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের জমি মাছের ঘের আমাদের করে খেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে থানায় বা আদালতে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এমনিতেই হুমকির মুখে আছি। অভিযোগ করলে কেউ বাড়ি থাকতে পারব না।

অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন কবির ঝনু বলেন, আমি তার নিকট কোনো ৬০ লাখ টাকা দাবি করিনি। বরং আমাকে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর যে ক্ষতি হয়েছে, মামলার সেই সমস্ত খরচ তাকে দিতে হবে। আমাকে নাভারণ গরুর হাটের সামনে থেকে তুলে নিয়ে ঢাকার মুগদা থানায় অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল, যা তবিবুর রহমানের কারসাজিতেই হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘেরটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আমি সেই ঘের থেকে কোনো মাছ ধরছি না। বর্ষার মৌসুমে পানিতে ঘের ভেসে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে মাছ প্রবেশ করলে হয়তো গ্রামের লোকজন তা ধরতে পারে। তবে আমার মামলার খরচ তাকেই দিতে হবে। আমি তাকে স্থানীয় নেতাদের সাথে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার কথা বললেও সে কর্ণপাত করছে না।

শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আহম্মেদ আলী শাহিন জানান, ‘হুমায়ুন কবীর ঝনু ১০ নং শার্শা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড স্বরুপদহের বিএনপির সদস্য।’ তবে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু জানান, ‘হুমায়ুন কবির ঝনু বিএনপির কোন পদে নেই। তার কোন অপকর্মের জন্য বিএনপি দ্বায়ী নয়।’