মমেকে অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিল কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেনের কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খান।
তিনি বলেন, কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি ছিল কি না তা উদ্ঘাটন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আজ বিকেলে কমিটি সিলগালা খামে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সে আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় লিফট কন্ট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে আসে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন আতঙ্কে দুজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে।
অগ্নিকাণ্ডের দিন রাতেই হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে কমিটিতে রাখায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সচেতন মহল তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেই কমিটি বাতিল করে পরদিন মঙ্গলবার নতুন করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
পুনর্গঠিত কমিটিতে অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে সভাপতি ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খানকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ (দক্ষিণ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, ডেন্টাল সার্জন ডা. খন্দকার মো. আনোয়ার হোসেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের তথ্য নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) হাসপাতালে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ। তারা হাসপাতাল পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের অপসারণ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিহতদের পরিবারপ্রতি এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়।
হাসপাতাল গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত ২০ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় দুই দফায় সময় বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় পাঁচ কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং পরবর্তীতে আরও তিন কার্যদিবস বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হলো।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানান, কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং প্রাপ্ত সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
