পটুয়াখালীতে লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলার ডুবে নিহত ২

পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌপথে চলাচলকারী ‘আওলাদ-৭’ নামের একটি লঞ্চের সঙ্গে তরমুজবোঝাই ট্রলারের সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ থাকার কয়েক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠী লঞ্চঘাট সংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামের মো. নাসির ফকির ও নলুয়া গ্রামের রেজাউল হাওলাদার। তারা দুজনই তরমুজ পরিবহনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোররাতে ট্রলারটি বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি ‘আওলাদ-৭’ লঞ্চটি ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরের কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন নাসির ও রেজাউল। হঠাৎ ট্রলার ডুবে যাওয়ায় তারা বের হতে না পেরে মারা যান। তবে ট্রলারে থাকা অন্যরা সাঁতরে তীরে ওঠেন।
জানা গেছে, ট্রলারটিতে মোট ছয়জন ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন কেবিনে অবস্থান করছিলেন। সংঘর্ষের সময় কেবিনে থাকা একজন বের হতে পারলেও বাকি দুজন ভেতরেই আটকা পড়েন এবং নিখোঁজ হন। পরে ডুবুরি দল তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে লোহালিয়া নদীতে ঘন কুয়াশা ছিল। এতে ট্রলারটি লঞ্চের সুকানির নজরে না পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের পটুয়াখালী টিম লিডার মুজিবুর রহমান জানান, কয়েক ঘণ্টা অভিযানের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নদী থেকে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, রাতে লঞ্চ ও ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।