Advertisement

চা বিক্রিতে নতুন মাইলফলকে ন্যাশনাল টি কোম্পানি

রুহুল হৃদয়, মৌলভীবাজার
চা বিক্রিতে নতুন মাইলফলকে ন্যাশনাল টি কোম্পানি
মৌলভীবাজারে অবস্থিত একটি চা বাগান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চা নিলামে নিজেদের অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)। নিলামে কোম্পানিটি চা বিক্রির গড় দাম পেয়েছে ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা, যা সরকার নির্ধারিত ফ্লোরপ্রাইস বা ন্যূনতম নিলামমূল্য (২৪৫ টাকা) থেকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি।

Advertisement

রেকর্ড দামে নিলামে চা বিক্রি করে বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্রেতাদের তুঙ্গস্পর্শী আস্থার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে এনটিসির ঝুলিতে যুক্ত হয় এই ঐতিহাসিক সাফল্য। নিলামে কোম্পানিটির ১২টি বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা একযোগে বিক্রি হয়।

কোম্পানি সূত্র জানায়, নিলামের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল এনটিসির মালিকানাধীন ১২টি চা বাগানের প্রতিটি বাগানের চায়ের গড় দাম কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার কোটা অতিক্রম করেছে। একক কোনো নিলামে কোনো কোম্পানির সব কটি বাগানের চায়ের এমন ধারাবাহিক ও উচ্চমূল্য পাওয়ার ঘটনা এটি প্রথম।

এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের ওপর ভর করে এক দিনে (নিলামের দিন) কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা। চড়া দামে বিক্রির সঙ্গে চা উৎপাদনেও বইছে জোয়ার। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এনটিসির মোট চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় একলাফে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির সিলেট অঞ্চলের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এর আগে ২০২৫-২৬ মৌসুমের ৩১তম নিলামে এনটিসি একটি একক নিলামে সর্বোচ্চ মূল্য ও পরিমাণের চা বিক্রির রেকর্ড গড়েছিল। সেই নিলামে কোম্পানিটির ১২টি চা বাগান থেকে প্রায় আড়াই লাখ কেজি চা বিক্রি করে ছয় কোটি ছয় লাখ টাকা আয় করেছিল, যা একক নিলামে এনটিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে এক নিলামে সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড ছিল প্রায় চার কোটি টাকা।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান নিশ্চিত করার কঠোর নীতি। চা শ্রমিকদের মাধ্যমে অতি সূক্ষ্মভাবে কেবল ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ সংগ্রহের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। এরপর আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিবিড় নজরদারির ছোঁয়ায় তৈরি চায়ের রঙ, মনমাতানো সুবাস, গাঢ় ঘনত্ব ও স্বাদে এসেছে এক স্বর্গীয় আমেজ।

তিনি জানান, নিলামে দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ক্রেতারা এই প্রিমিয়াম মানের চায়ের জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, সুনির্দিষ্ট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের যে দৃষ্টান্ত এনটিসি তৈরি করেছে, তা পুরো দেশের চা খাতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।

কোম্পানির সাফল্যের নেপথ্য গল্প ও প্রত্যয় তুলে ধরে এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, আমাদের এই অর্জন গুণগত উৎকর্ষ ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল। ভবিষ্যতেও বিশ্বমানের চা উৎপাদন বজায় রেখে দেশের চা শিল্পকে বিশ্ব দরবারে আরও সমৃদ্ধ করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাব। কোম্পানির এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রায় ভোক্তা, ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।