ফরিদপুরে বিএনপির দুই নেতাকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা ও তার ভাতিজাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের কদমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন কদমী গ্রামের বাসিন্দা রহমান মোল্লা (৪৬) ও তার ভাতিজা সুমন শেখ (২৭)। রহমান মোল্লা ঢাকায় ব্যবসা করলেও তিনি বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক হিসাবে ছিলেন। আর সুমন শেখ রূপপাত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রহমান মোল্লার সঙ্গে রূপপাত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও একই ওয়ার্ড কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ মার্চ ফিরোজ মোল্লার সমর্থক ও কদমী গ্রামের বাসিন্দা সজল নামে এক যুবক মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যান। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপি নেতা রহমান মোল্লা সজলকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে সন্দেহ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে রূপপাত বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে রহমান মোল্লা ও তার ভাতিজা সুমনকে সজল মোল্লা তার ৮/৯ জন সহযোগী ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
পরে স্থানীয়রা রহমান ও সুমনকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয় রহমানের চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ বলেন, ফিরোজ মোল্লার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। সজলকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষকলীগ নেতা ফিরোজ মোল্লা জানান, ঘটনার সময় তিনি গোপালগঞ্জে ছিলেন। তিনি শুনেছেন, কিছু যুবক দুজনকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালেও হামলাকারীরা পলাতক থাকায় তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।