হস্তান্তরের আগেই হেলে পড়ল ৪২ লাখ টাকার সেতু
-1774484333-8581_1774484385.jpg)
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি ডেক-স্ল্যাব সেতু ধসে একদিকে হেলে পড়েছে। এতে সেতুটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর-গোপালপুর সংযোগ সড়কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন সেতুটিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির একাংশ দেবে গিয়ে পুরো কাঠামো একদিকে হেলে পড়েছে। এতে সেতুটি দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, আগে সেখানে একটি পাটাতন সেতু ছিল, যা দিয়ে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করতেন। এখন তারা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প সাঁকোর ওপর নির্ভর করছেন।
এলাকাবাসী আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রশিদ, সৈকত সিকদারসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, নির্মাণের শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম ছিল। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে গত বছরের নভেম্বরে পুনরায় কাজ শুরু হয়। তবে নতুন ঠিকাদারের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবের কারণে ঢালাইয়ের সময়ই সেতুর একাংশ দেবে যায়। পরে তা ভেঙে আবার নির্মাণ করা হলেও কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে না; মূলত বাইসাইকেল ও অটোরিকশা চলে। তবুও এমন নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় দায়সারা কাজ করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নুরুল আমিন খান সুরুজ পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, সেতুটি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।