logo

উত্তরের পথে এবার স্বস্তির আশা

উত্তরের পথে এবার স্বস্তির আশা

এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা নেই উত্তরাঞ্চলের বাসন্দিাদের। চালু করা হয়েছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেন। পাশাপাশি যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় মহাসড়কে নির্মিত সবগুলো উড়াল সেতু ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়কগুলো চালু রয়েছে। এই পথে আগে তীব্র যানজট দেখা গেলেও এবার সেই শঙ্কা নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের পাশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। সড়কে তিন চাকার যানবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। ফলে এবার যানজট বা ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন উত্তরের ঘরমুখো মানুষ।

সাসেক-২ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে। মহাসড়কের চার লেনই চালু রয়েছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়কগুলো দিয়ে যানবহন চলাচল করছে। ইন্টারচেঞ্জের ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যে সড়ক রয়েছে সেটি এখন বন্ধ রয়েছে, তবে ঈদযাত্রার আগে খুলে দেওয়া হবে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে উত্তরের ঈদযাত্রা হবে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক। ঈদে একসঙ্গে সবার ছুটি এবং বাড়ি যাওয়ার কারণে সড়কে একটু চাপ থাকলেও কোনো যানজট থাকবে না। এজন্য জেলা পুলিশ ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। মহাসড়কে ভোগান্তি মুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০০ পুলিশ সদস্য কাজ শুরু করেছে। ঈদযাত্রায় এর সংখ্যা আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়াও মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই যেন না হয় সেজন্যও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যমুনা সেতু নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিকর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন অনেকে। স্বাভাবিক সময়ে যমুনা সেতু হয়ে প্রতিদিন উত্তরের ১৬ ও দক্ষিণের পাঁচ জেলার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদযাত্রায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। 

যমুনা সেতুতে একদিকে ছয় লেনের এবং অন্যদিকে চার লেনের গাড়ি টোল প্লাজা অতিক্রম করে সেতুতে প্রবেশ করে। তবে পাশাপাশি দুইটি যানবাহন একসঙ্গে যেতে না পারায় যানবাহনের চাপ সামলানো সম্ভব হয় না। এতেও সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ফিটনেসবিহীন এবং লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে যানজট বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন দ্রুত রেসকিউ করার জন্য আগে দুটি রেসকিউ গাড়ি রাখা হতো। এবার আরেকটি রেসকিউ গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। আমরা যতটা পারি যমুনা সেতুতে সুন্দরভাবে যানবাহন পারাপারের বিষয়টি নিশ্চিত করব।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদযাত্রায় সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে আমরা কাজ শুরু করেছি। মহাসড়কের পাশে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকাগুলো উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। মহাসড়কে যেন ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি না চলে সেজন্য জেলা শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। মহাসড়কের কোথাও যানবাহন দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশের প্রায় ১ হাজার ৬০০ সদস্য রয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে কেউ অসুস্থ না হলে আমিসহ সবাই মহাসড়কে ভোগান্তি মুক্ত রাখতে কাজ করব। কোনো যানবাহন মহাসড়কে বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে মহাসড়ক সচল করা হবে। উদ্ধারকারী রেকার ও চেইন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে থাকবে। প্রস্তুত থাকবে উদ্ধারকারী টিমও। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই যেন না হয়, সেজন্যও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের ফোর্স কাজ শুরু করেছে। সব মিলে এ বছর উত্তরের ঈদযাত্রা হবে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক।