সাভার-আশুলিয়ায় ঘরমুখো মানুষের ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে।
কারখানা ছুটি হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই এই অঞ্চলের শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
এতে করে সাভার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে যাত্রীরা বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছে।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ সূত্রে জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) এবং অন্যান্য (নন-আরএমজি) মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব কারখানার প্রায় ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজকে মঙ্গলবার দুপুরের পর ৪৭ শতাংশ শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হবে, ফলে দুপুরের পর থেকেই সড়কগুলোতে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কালকে বাকি কারখানাগুলো ছুটি হলে যাত্রী ও গাড়ির চাপ থাকবে কিছুটা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত সাভার উপজেলার আওতাধীন ঢাকা-আরিচা এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের কোথাও কোনো বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে অতিরিক্ত যাত্রীবাহী বাস ও মানুষের চাপের কারণে যানবাহনগুলোকে কিছুটা ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও ঢাকা আরিচার নবীনগর এলাকা এবং নবীনগর থেকে উত্তরবঙ্গের মহাসড়কের বাইপাইল এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে প্রচুরসংখ্যক খালি বস। কোথাও কোথাও বাসগুলো মহাসড়কের ওপর রেখে মহাসড়ককে সরু করে ফেলেছে। এতেও ধীরগতির পরিমাণ বাড়ছে এই এলাকাগুলোতে।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া জানান, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়িগুলোকে কিছুটা ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। এ ছাড়া বাইপাইল এলাকাতেও গাড়ির গতি কিছুটা কম রয়েছে। তবে কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মহাসড়কে তৎপর রয়েছে।
যানজটমুক্ত মহাসড়কে স্বস্তি থাকলেও বরাবরের মতোই কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং টিকিট কাটার পরও নির্ধারিত সময়ে বাস না পাওয়ার মতো নানা অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
নবীনগর ও বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদকে পুঁজি করে পরিবহনগুলো দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া দাবি করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা মিলছে না।
ঢাকা জেলা (উত্তর) ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রোববার সকাল ৮টা থেকে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত আরও ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। যারা তিনটি শিফটে ডিউটি করবে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা, দুপুর ২টা থেকে রাত দশটা এবং রাত দশটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়াও ঈদে গার্মেন্টসের লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকদের ঈদ যাত্রায় বাইপাইল ও নবীনগর মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ থাকে। এ বাসগুলোর কারণে যেন মহাসড়কের কোনো ভোগান্তির সৃষ্টি না হয় সেজন্য বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। এবং বাড়তি ভাড়া আদায় যেন না করতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। এ ছাড়াও ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং মহাসড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
