জুন পর্যন্ত জ্বালানিতে ব্যয় হবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি; বরং ভর্তুকি দিয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনে এনে সরবরাহ দিচ্ছে। এ খাতে আগামী জুন পর্যন্ত সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যাতে সাধারণ মানুষ কষ্টে না পড়ে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং গাক চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় সেখানে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প ও ছানি রোগীদের অপারেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেল নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও দেশে এর সরবরাহ ও মজুত স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সাশ্রয় ও সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বাজারে সরবরাহ ও মজুত ঠিক আছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে ৯১টি বিল পাস করেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়েছে। অতীতে ১/১১-এর সময় প্রায় ২৫০টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, সরকার ভবিষ্যতে সব আইন বিল আকারে পাস করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ২০ তারিখে তারেক রহমানের বগুড়া সফর প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যদিও তা এখনও চূড়ান্ত নয়। সফরে ই-বেল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন, সিটি করপোরেশন সংক্রান্ত ঘোষণা এবং বাগবাড়ী এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপলক্ষে ১৫ তারিখে ঢাকার একটি প্রস্তুতি দল বগুড়ায় আসবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একার পক্ষে সরকারের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়, তাই এসব সংস্থার অবদান প্রশংসনীয়।
তিনি জানান, মহাস্থান মোকামতলা এলাকায় একটি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বহাল থাকবে এবং একে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার চিন্তা চলছে। সেখানে কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গাক চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র পরিচালক ডা. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুজ্জামান, গাক চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এস এম রেজাউন্নবী মন্ডল, উপপরিচালক মোহাম্মদ আরমান হোসেন, সহকারী পরিচালক জিয়া উদ্দিন সরকার, মিল্কভিটার পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, পৌর বিএনপির সভাপতি বুলবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।