logo
Advertisement

বাগেরহাট/এক মাস পর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,বাগেরহাট
এক মাস পর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন
ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তার আসামিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর তদন্তে এ রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিহত আহাদ হাওলাদারের মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কচুয়ার চান্দেরকোলা এলাকার জাহিদুল ইসলাম, আসাদুল শেখ ও মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু। পুলিশ বলছে, তারা পরস্পরের চাচাতো ভাই এবং তাদের বাড়িও কাছাকাছি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২ আগস্ট কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা এলাকায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরে ৪ আগস্ট একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত আহাদ হাওলাদারের বোন বিধবা পাখির সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে আহাদের মা মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে এ বিরোধের জেরে জাহিদুল হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে তার চাচাতো ভাই আসাদুল শেখ ও আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন বলে দাবি পুলিশের।

তিনি বলেন, তদন্তের শুরুতেই জাহিদুলকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তা, স্থানীয় সোর্স ও গোপন তদন্তের মাধ্যমে তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে জাহিদুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। পরে নিহতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্যের সূত্র ধরে আসাদুল ও আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, আসাদুলকে গ্রেপ্তারের পর তার বাড়ি থেকে নিহত আহাদ হাওলাদারের মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল ও আরিফের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু জানায়, হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে আহাদ হাওলাদারকে (২৫) হত্যা করা হয়। তার পা চেপে ধরে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় মনিরা বেগম ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে আহাদ পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় মনিরা বেগমকেও (৫২) রশি দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পরে মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগম (৮৫) বিষয়টি টের পেলে তাকেও মাটিতে ফেলে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। কয়েক দিন আগে রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রাম থেকে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ৪ আগস্ট ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় এক মাসের তদন্ত শেষে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং নিহত আহাদের মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করা হয়।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।