logo

বর্ণিল আয়োজনে ১২৬ তরুণ-তরুণীর বিয়ে

বর্ণিল আয়োজনে ১২৬ তরুণ-তরুণীর বিয়ে

সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী এক বিয়ের আয়োজন। সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিয়ে হলো হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় ১২৬ তরুণ-তরুণীর। তাদের বিয়েকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আমানউল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে ভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে সিডস অব সাদাকাহ নামের একটি সংগঠন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তরুণ-তরুণীরা প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অর্থাভাবে বিয়ে করা হচ্ছিল না তাদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুঁজে এতিম এসব তরুণদের বিয়ের আয়োজন করেন তারা। প্রতি বছরের মতো এবার ৬৩ ছেলে ও ৬৩ মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার। অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবারের পাঁচজন করে সদস্য অংশ নেন।

এই গণবিয়েকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরের বালুচরের আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বর ও কনে পক্ষের পরিবার ছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিদের দাওয়াত করা হয়। পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের খাবার। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একসঙ্গে যুগল এবং অতিথিরা হলরুমে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

আয়োজনে খাবার-দাবারসহ কোনোকিছুর কমতি ছিল না। প্রত্যেক কনের জন্য ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানের দুল এবং জামদানি শাড়ি দেওয়া হয়। উপহার হিসেবে প্রত্যেক নবদম্পতিকে নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লাখ টাকা সমমূল্যের ৭৭ ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

বর আতিকুল ইসলাম বরেন, সুমাইয়া নামের একটি মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছেন। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে। এই রকম বড় আয়োজনে তাদের বিয়ে হবে, এমনটা ভাবতেও পারেননি। আয়োজকরা এই সুযোগ করে দিয়েছেন, এজন্য তাদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন তিনি।

আইরিন নামের মেয়েটির বিয়ে হয়েছে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে। তারা দুজন এতে খুশি। চির দিন যেন তারা একসঙ্গে সুখে সংসার করতে পারেন, সে জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।

সিডস অব সাদাকাহ সংগঠনের প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য আনন্দ এবং স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিডস অব সাদাকাহর আয়োজক ওরকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।