Advertisement

সিরাজগঞ্জে ফিরছে পাটের সোনালি দিন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে ফিরছে পাটের সোনালি দিন
কৃষকের মুখে হাসি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা ধীরে ধীরে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও সময়ের পরিক্রমায় আবারও বদলাতে শুরু করেছে সেই চিত্র। পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, বাজারে সন্তোষজনক দাম এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির সুবাদে জেলাজুড়ে নতুন করে বাড়ছে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ। ফলে মাঠজুড়ে যেন আবারও দুলছে সবুজের সমারোহ, খাল-বিলে ফিরে এসেছে পাট জাগ দেওয়ার সেই চিরচেনা দৃশ্য, আর কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

Advertisement

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে নতুন পাটের বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। বাজারে প্রতি মণ মেস্তা পাট ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে তোষা পাটের দর প্রতি মণ ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানের এই বাজারদর কৃষকদের জন্য যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাটের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। বিশেষ করে শাহজাদপুর ও চলনবিল অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর পুনরায় পাট চাষ শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৪ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে দেশি, তোষা, মেস্তা, কেনাফ, জেআরও-৫২৪, সবুজ সোনা এবং বারি-১ উল্লেখযোগ্য। গড়ে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ উৎপাদন হলেও কয়েকটি এলাকায় বিঘাপ্রতি ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাজারদর ভালো থাকায় অধিকাংশ কৃষক সন্তোষজনক মুনাফা অর্জন করছেন।

বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ। খাল-বিল, নদী ও প্লাবনভূমিতে সারি সারি করে জাগ দেওয়া পাট যেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে। গ্রামের পথঘাটে শুকাতে দেওয়া পাটের আঁশ আর পাটশোলার পরিচিত গন্ধ নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বাংলার সেই সোনালি ইতিহাসের কথা।

কামারখন্দ উপজেলার পাইকোশা গ্রামের কৃষক মাহিদুল ইসলাম জানান, একসময় পাটের দাম না থাকায় তারা চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের উৎসাহে তারা আবার পাট আবাদ করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনি এত ভালো ফলন হবে। প্রতিটি গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। বিঘাপ্রতি প্রায় ১৫ মণ পাট পেয়েছি। বাজারেও ভালো দাম থাকায় খরচ তুলে বেশ ভালো লাভ করতে পারছি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী এলাকার পাট ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, এ বছর পাটের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি এসে পাট কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এবং কৃষকেরাও সঠিক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের কারণে এ বছর পাটের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারমূল্য সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও পাট চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।