ধর্ষণের পর শিশুর হাতে দেওয়া হয় ২০ টাকার নোট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াসিন মিয়া (৫০) নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষার জন্য থানায় আনা হলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। বাড়ি ফেরার পথে ইয়াসিন মিয়া তাকে নিজের ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার হাতে ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুপক্ষের লোকজন ও স্থানীয় মাতব্বরেরা বৈঠকে বসেন। সেখানে ১২ জন মাতব্বরকে নিয়ে একটি বিচার কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তিনি এতে রাজি না হয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, এরপর ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন ও সহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ঘটনার তিন দিন পর শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দুপক্ষের লোকজন ও মাতব্বরদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম। ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

