logo
Advertisement

বয়স্ক ভাতার টাকা ঢুকছে স্ত্রী-ছেলের নম্বরে, মেম্বারের দাবি ‘ভুল করে’

এশিয়া পোস্ট নিউজ,নরসিংদী
বয়স্ক ভাতার টাকা ঢুকছে স্ত্রী-ছেলের নম্বরে, মেম্বারের দাবি ‘ভুল করে’
ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নরসিংদীর মনোহরদীতে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর নামে বরাদ্দ করা বয়স্ক ভাতার টাকা প্রায় এক বছর ধরে ইউপি সদস্য নিজের স্ত্রী ও ছেলের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

অভিযুক্ত মো. হাবিবুর রহমান চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহাসভাপতি। ভুক্তভোগী দুই বয়স্ক ব্যক্তি হলেন চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা মো. আজিজুল হক তালুকদার ও তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই বৃদ্ধ দম্পতির জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ করেন ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান। পরবর্তীতে একাধিকবার ভাতার খোঁজ নিতে গেলে ভাতা হয়নি বলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফেরদৌসী বেগম তাদের এনআইডির তথ্য নিয়ে অনলাইন ডাটাবেজে যাচাই-বাছাই করলে জালিয়াতির থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। সমাজসেবা দপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত টানা এক বছর এই দম্পতির নামে টাকা ছাড় করা হয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, আজিজুল হক তালুকদারের ভাতার মোবাইল নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. অমিত হাসানের নম্বর। অন্যদিকে হোসনে আরা বেগমের নম্বরের স্থানে যুক্ত করা হয়েছে ইউপি সদস্যের স্ত্রী মনোয়ারা মায়ার ব্যবহৃত নম্বর। প্রতি তিন মাস পর পর ১ হাজার ৯৬১ টাকা হারে দুটি নম্বরে চার কিস্তিতে মোট ১৫ হাজার ৬৮৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. আজিজুল হক তালুকদার জানান, সরল বিশ্বাসে মেম্বারের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছিলাম। তিনি আমার ও আমার স্ত্রীর নামে ভাতার টাকা নিজের ছেলে ও স্ত্রীর নম্বরে তুলে নিয়েছেন। আগে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেও তিনি বিষয়টি স্বীকার করেননি। পরে নারী মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে এমনটা প্রত্যাশা করি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি এলাকার অনেককেই বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। এর মধ্যে দুটি কার্ডে ভুল করে আমার ছেলে ও স্ত্রীর নামের নম্বর চলে গেছে। কীভাবে এমন হলো, বুঝতে পারছি না। এ জন্য তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি।

মনোহরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, আমরা ভাতাভোগীদের প্রতিটি নম্বর যাচাই-বাছাই করি। তবে কিছু নম্বর বন্ধ থাকায় সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মেম্বারের মাধ্যমে ভাতার টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিনি ওই টাকা গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।