logo
প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ

ভেরিফিকেশনে নিয়োগপত্র পাননি ১২ শতাধিক প্রার্থী, আন্দোলনের প্রস্তুতি

ভেরিফিকেশনে নিয়োগপত্র পাননি ১২ শতাধিক প্রার্থী, আন্দোলনের প্রস্তুতি
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে ১২ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি বলে জানিয়েছে ‘চূড়ান্ত সুপাররিপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত আট মাস ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত আন্দোলনকারীরা এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এই প্ল্যাটফর্মের এক মুখপাত্রের গণমাধ্যমে পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি পাঁচটি দাবিও তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের দোহাই দিয়ে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ব্যতিরেকে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের নিয়োগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইস্যু করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে—

তাৎক্ষণিক পুনর্বিবেচনা: ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনঃযাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করতে হবে;

আপিল ও শুনানির অধিকার: তথ্যগত ভুল বা অসংগতির শিকার প্রার্থীদের নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে;

প্রশাসনিক ভুল সংশোধন: কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা অবিলম্বে সংশোধন করে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;

আটকে থাকা নিয়োগপত্র অবিলম্বে প্রদান: চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়া সব প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো অযৌক্তিক কারণে এই প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত করা যাবে না;

দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ: পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং কোন প্রক্রিয়ায় এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়লেন, তার সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

জানা গেছে, সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিন সকাল ১০টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হবেন আন্দোলনকারীরা।

সুপারিশবঞ্চিতদের মধ্যে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. লোকমান নামে একজন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কিছু জেলার তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। সব জেলা মিলিয়ে সেটা আড়াই থেকে তিন হাজার হতে পারে বলে ধারণা করছি। আমরা আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হব। এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।