শিক্ষক নেতা আজিজী/শিক্ষকদের আন্দোলন দমাতে প্রভাব বিস্তার করছেন শিক্ষামন্ত্রী, দাবি শিক্ষক নেতা আজিজীর

নবম পে স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। তবে এই আন্দোলন দমাতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।
তিনি মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব। ময়মনসিংহের কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষও তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এশিয়া পোস্টের কাছে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী অভিযোগ করেন, আন্দোলন ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রী তার প্রতিষ্ঠানে ঢাকা থেকে একের পর এক কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠাচ্ছেন।
দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলন ঠেকাতে আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢাকা থেকে একের পর এক কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠাচ্ছেন। আজ বুধবার তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুনকে মাদ্রাসা পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। একইদিনে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকেও একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন। ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আমার মাদ্রাসায় ঢাকা থেকে তিনজন কর্মকর্তা পাঠিয়েছেন। এসব যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা সহজেই বোঝা যায়।’
এ শিক্ষকনেতা আরও বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আমাকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কথা বলেছেন। আমার আন্দোলন নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। অথচ তার বিপদের দিনে এই শিক্ষকরাই পাশে থেকেছে।’
দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষকরা যৌক্তিক দাবি আদায়ে কর্মসূচি দিয়েছেন। তিনি শিক্ষকদের ডেকে তাদের দাবি বা আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে চাইতে পারতেন। তিনি আমাদের অভিভাবক। কিন্তু তা না করে আন্দোলন দমন করতে শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন।’
শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয়ে নূরুল আফসার দীপু জানান, মন্ত্রী বৈঠকে রয়েছেন। শিক্ষকদের পেছনে লাগার মতো সময় মন্ত্রীর আছে কি না, তা তার জানা নেই।
আগামী ৪ নভেম্বরের কর্মসূচি হবে কি না, জানতে চাইলে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। আমার চাকরি গেলেও আন্দোলন চলবে।’
প্রসঙ্গত, তিন দাবিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের আয়োজনে আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নবম পে স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান করতে হবে; অবিলম্বে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করতে হবে।
