প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও শিক্ষক সংকট কাটেনি বেরোবির

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার হলেও শিক্ষক সংকট কাটেনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতি ৪৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক আছেন।
বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের ন্যূনতম মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০, অর্থাৎ প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একজন শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। সেখানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এ মানদণ্ডের অনেক নিচে অবস্থান করছে। এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২টি বিভাগে মোট ২০৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ জন শিক্ষা ছুটিতে আছেন। এ ছাড়া আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তিনজন এবং যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত রয়েছেন একজন শিক্ষক। ফলে বর্তমানে মাত্র ১৭২ জন শিক্ষক দিয়ে প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষক সংকটে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১৭২ জন শিক্ষক, অর্থাৎ প্রতি ৪৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।
শিক্ষক সংকটের কারণে গড়ে একজন শিক্ষককে ৮ থেকে ১০টি কোর্স নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষার চাপে গবেষণা কার্যক্রমে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না শিক্ষকরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এক বছর মেয়াদি দুই সেমিস্টারের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ানো হয় ১২ থেকে ১৪টি কোর্স। সে হিসাবে চার বছর মেয়াদি আট সেমিস্টারের স্নাতক পর্যায়ে পড়ানো হয় ন্যূনতম ৪৮ থেকে ৫৬টি কোর্স। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই নিতে হচ্ছে ৯ থেকে ১০টি কোর্স। কিছু বিভাগে এর সংখ্যা আরও বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ কয়েকটি বিভাগ মাত্র পাঁচজন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে। অধিকাংশ বিভাগেই সাত থেকে আটজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে ১৮২টি পদের আবেদন করা হলেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ১৮২ পদের বিপরীতে মাত্র ছয়টি পদ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে শিগগিরই শিক্ষক সংকট নিরসনের সম্ভাবনা খুবই কম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অন্যান্য দায়িত্বেও রয়েছে চরম জনবল সংকট। একই ব্যক্তিকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামানিক বলেন, প্রতিনিয়ত আমরা শিক্ষকের চাহিদা পাঠাচ্ছি, কিন্তু ইউজিসি চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক দিতে পারছে না। আবার অনেক বিভাগে অস্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন, তাদেরও স্থায়ী করা যাচ্ছে না।
শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কিছু পদ পেয়েছি, পাশাপাশি আরও পদের চাহিদা দেওয়া আছে। বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক সংকট রয়েছে, তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তা কিছুটা বেশি। তবে আমাদের জন্য ইতিবাচক বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইউজিসির সদস্য হওয়ায় তিনি শিক্ষক সংকট নিরসনে নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।