ছাত্রদল আমার জীবন অতিষ্ঠ করতে উঠেপড়ে লেগেছে, অভিযোগ সর্বমিত্রের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানোর পর এবার ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রদর্শনের ঘটনা সামনে আনলেন সর্বমিত্র চাকমা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে নিজের ফেসবুকে ভিডিওসহ দেওয়া পোস্টে তিনি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। সর্বমিত্র চাকমা ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচন করে সদস্য নির্বাচিত হন।
ছাত্রদলকে নিয়ে দেওয়া পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ‘গতকাল ছাত্রদলের চাঁদাবাজির ঘটনা সামনে আনায় আমার জীবন অতিষ্ঠ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আরেকটি ঘটনা নিজেদের মতো ন্যারেটিভ দিয়ে সামনে আনার চেষ্টা করছে তারা। তাই, আমিই সামনে আনলাম।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লাইস্যান্সবিহীন ও হলারঅলা বাইক নিষিদ্ধ। টিএসসিতে নবম শ্রেণিতে পড়া এই ছেলে হলারওয়ালা, লাইস্যান্স-রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন বাইক নিয়ে আসে। প্রক্টরিয়াল টিম থানায় দিতে চাইলে সে শাহবাগ থানা ছাত্রদল সভাপতি পরিচয়ে একজনের কল ধরিয়ে দেয় এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করে। মূলত সে ছিল ১৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ভিডিওতে শুনবেন, তার কথিত মামা আমাকে টাকা অফার করার সাজেশন দিচ্ছে।’
সর্বমিত্র তার পোস্টের সঙ্গে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সংযুক্ত করেন। ভিডিওতে এক তরুণকে দেখা যায়। ওই তরুণ মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলেন। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘কী কথা কস তুই টাকা ছাড়া?’ তখন তরুণটি বলেন, ‘ওনাদের সঙ্গে কথা বলতেছিলাম আমি। ওনারা নাম লিখতেছিল।’ অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘মামলা লিখতেছে।’ তখন তরুণ বলেন, ‘আমি বলতে পারি না।’
অপর প্রান্তের ব্যক্তি বলেন, ‘বলতে পারি না মানে? তাড়াতাড়ি বল, বাসায় গিয়ে কিছু করতে হবে।’ তখন তরুণ বলেন, ‘ভাই, তুমি চলে যাও।’ বিপরীতে ওই ব্যক্তি একজনকে আনার কথা বলেন। তখন ওই তরুণ নাকচ করে দিলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তুই সল্যুশন দে। তোর কী হলো বুঝলাম না। কথার সুর চেঞ্জ!’ এ সময় তরুণটি সঙ্গে আনতে চাওয়া ব্যক্তির বিষয় রাজি হন।
এদিকে, ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) সর্বমিত্র চাকমার নির্দেশে কয়েকজন বহিরাগতকে কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় তিনি সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।’
নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারও প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’
এর আগে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এদিন দুপুরে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এ ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।