logo

ডুজার সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ববিসাসের মানববন্ধন

ডুজার সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ববিসাসের মানববন্ধন

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানী শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস)।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩নং গেটের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে আব্দুলা আল মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আব্দুল কাদের জীবন, মৃত্যুঞ্জয় রায়, মো. জাহিদ হোসেন, মো. আবু উবাইদা, মাসুদ রানা। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, মামলা গ্রহণ, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ ফ্যাসিবাদী কাঠামো নিরসনের পর একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক ছিল। সরকারের গঠনের দুই মাস পার হতে না হতেই আমাদের প্রত্যাশায় ছেদ ধরেছে। আমরা দেখেছি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে হামলার শিখার হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের প্রতি হামলা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যারা হামলা করেছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি সাংবাদিক উপর হামলার বিচার না করে তাহলে এই রাষ্ট্র বিপথগামী হবে। সাংবাদিকরা তাদের কলমের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলে এই হামলার জবাব দেবে। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু উবাইদা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা নতুন কিছু না। বারবার সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিখার হতে হয়েছে। আমাদের হাতের ভোটের কালির দাগ শুকায়নি। এর ভেতর সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। তারেক রহমান বলেছিল, ‘I have a plan.’ আমরা মনে করছিলাম এই রাষ্ট্র সুন্দর ভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে চলবে। কিন্তু তার রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের ফলে তারেক রহমানের বক্তব্যের সাথে কোনো মিল নেই। বরং বিগত সময়ের মত সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা সুস্পষ্ট করে বলছি যদি এই হামলার বিচার না হয় তবে কলম বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এই হামলার দাঁত ভাঙা জবাব দেব।

এ সময় গণমাধ্যম কর্মী মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, গণমাধ্যমগুলো যখন সত্য প্রচারের পরিবর্তে শক্তির প্রচার করে, তখন সেই সমাজ, সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়ায়। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তারা যখন জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে শাসকশ্রেণির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নির্যাতিতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, তখন সেই রাষ্ট্রটি চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদের রূপ ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, যারা সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটি না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বপ্ন হিসেবেই থাকবে এবং সরকার আবার ফ্যাসিবাদে রূপান্তরিত হবে।