যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপে মাস্টার্সের সুযোগ পেলেন খুবির সাইদুর

যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল-ফান্ডেড) ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া’ বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান। তিনি দেশটির মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ‘মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ম্যানকাটো’ থেকে উচ্চশিক্ষার এই স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।
দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণার প্রতি নিষ্ঠার ফল হিসেবে তার এই সাফল্য। সাইদুরের এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।
সাইদুর রহমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি বিবিএ-তে সিজিপিএ ৩.২৭ এবং এমবিএ-তে ৩.৬৮ অর্জন করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএসেও তার সন্তোষজনক স্কোর রয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় কিউ-ওয়ান জার্নালে তার দুটি গবেষণা প্রবন্ধ পর্যালোচনাধীন ছিল।
তবে এই অর্জনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ফল-২০২৫ ও ফল-২০২৬ সেশন মিলিয়ে তিনি প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির ইতিবাচক সাড়া পান; যার মধ্যে তিনটি ছিল ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রাম।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর এমন একটি অর্জন সত্যিই আনন্দের। আমি ২০২৪ সাল থেকে স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা করে আসছি। প্রায় দুই বছরের নিরলস পরিশ্রমের পর ২০২৬ সালে এসে কাঙ্ক্ষিত সুযোগটি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। স্কলারশিপের ক্ষেত্রে রেকমেন্ডেশন লেটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখনই প্রয়োজন মনে করেছি, ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে তা দিয়েছেন। এছাড়া আমার বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও বিভিন্নভাবে পাশে ছিলেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
অনুজদের উদ্দেশ্যে সাইদুর বলেন, ‘সফল হতে হলে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কোনোভাবেই হতাশ হওয়া যাবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেতে হলে সঠিক তথ্য ও প্রক্রিয়া জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে গেলে সফল হওয়া সম্ভব।’
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, অলিম্পিয়াড এবং পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন সাইদুর।
এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম বলেন, ‘সাইদুর রহমানের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থারই ইতিবাচক প্রতিফলন। আমরা ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’
বর্তমান শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরতে ডিসিপ্লিন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সাইদুরের এই অর্জন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। পড়াশোনার চাপ ও নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সে প্রমাণ করেছে যে অধ্যবসায়, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে আমাদের শিক্ষার্থীরাও বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।’


