সিকৃবিতে শিক্ষকদের দুপক্ষের মারামারি, ভিসিসহ আহত ৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভুইয়াসসহ অন্তত ৬ শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে সিকৃবির ভিসির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা চলছে।
শিক্ষকদের একটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ভিসি প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলামের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন বিএনপিপন্থি সাদাদলের শিক্ষকরা। তবে তাদের পাত্তা না দিয়ে ভিসি নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভিসি’ দাবি করে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব মানবেন না বলে তিনি তার অনিয়ম দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর সাদাদলের শিক্ষকরা বারবার ভিসির সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চাইলেও তাদের অভিযোগ নানান অজুহাত দেখিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত থাকছিলেন।
এদিকে রোববার বিএনপিপন্থি সাদাদলের শিক্ষকরা তার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এমনটা অনুমান করে তিনি আগে থেকেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তার বলয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের সেখানে জড়ো করে রেখেছিলেন। সাদাদলের শিক্ষকরা সেখানে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে বিশেষ করে, নানান অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে গেলে একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত থাকা একজন সাদাদলের একজন শিক্ষককে ঘুসি মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত এবং তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ ঘটনায় সাদাদলের অন্তত ৭ জন শিক্ষক আহত হওয়ার দাবি করেছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলাম। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, সাদাদলের শিক্ষকরা নাকি ১৭ বছর অভুক্ত ছিলেন। এখন কোনো যোগ্যতার বিচার ছাড়াই তাদেরকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিতে হবে—এমন একটা দাবি নিয়ে আমার কাছে এসে হইচই শুরু করলে প্রক্টর, অ্যাডভাইজার, রেজিস্ট্রার এসে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা আমার ওপর চড়াও হলে তাদের ঠেকাতে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি এমনিতেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের ওপর তারা হাত তুলেছে। তাই এই ব্যাপারে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সাদাদলের শিক্ষক ও সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর কাজী মেহতাজুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, তার অবৈধ কার্যকলাম ও নিয়োগ বন্ধের দাবি নিয়ে কথা বলায় আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় আইন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।