২০ বছরে কুবিতে ৮ উপাচার্যের বদলি, কে কতদিন ছিলেন দায়িত্বে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশকে (২০০৬ থেকে বর্তমান) এখন পর্যন্ত মোট ৮ জন উপাচার্য এবং একজন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের কারণে অনেক উপাচার্যই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশকে (১ জন ভারপ্রাপ্তসহ) মোট ৯ জন উপাচার্যের নেতৃত্ব দেখেছে। ২০০৬ সালের ২৬ জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. গোলাম মাওলা, তিনি ৩০ জুলাই ২০০৮ পর্যন্ত প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৩১ জুলাই ২০০৮ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০০৮ পর্যন্ত ৮০ দিন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ছিলেন ড. এম. জুলফিকার আলী। পরে ড. এইচ এম জেহাদুল করিম ২০ অক্টোবর ২০০৮ থেকে ২২ নভেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত প্রায় এক বছর এক মাস দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ চার বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করেন ড. আমির হোসেন খান, যিনি ২৩ নভেম্বর ২০০৯ থেকে ২২ নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর ড. মো. আলী আশরাফ ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে ২ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত পূর্ণ চার বছর উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ড. এমরান কবির চৌধুরী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত প্রায় চার বছর দায়িত্বে ছিলেন। তার পরবর্তী উপাচার্য ড. এ.এফ.এম আব্দুল মঈন ৩১ জানুয়ারি ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ১৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত ১ বছর ৭ মাস ২১ দিন দায়িত্ব পালন করেন ড. মো. হায়দার আলী। সর্বশেষ ১৪ মে ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম.এম শরীফুল করীম, যিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।
দায়িত্বকালের হিসেবে ড. গোলাম মাওলা প্রায় ২ বছর দায়িত্ব পালন করেন (মোট ৭৩৫ দিন)। ড. এম. জুলফিকার আলী ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে ছিলেন মোট ৮০ দিন। ড. এইচ এম জেহাদুল করিম দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ১ বছর ১ মাস ২ দিন (মোট ৩৯৮ দিন)। ড. আমির হোসেন খান পূর্ণ ৪ বছর দায়িত্বে ছিলেন (মোট ১৪৬০ দিন)। ড. মো. আলী আশরাফ দায়িত্ব পালন করেন পূর্ণ ৪ বছর (মোট ১৪৬০ দিন)। ড. এমরান কবির চৌধুরী দায়িত্বে ছিলেন প্রায় ৩ বছর ১ মাস (মোট ১১২৬ দিন)। ড. এ.এফ.এম আব্দুল মঈন দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ২ বছর ৬ মাস ১৯ দিন (মোট ৯৩১ দিন)। ড. মো. হায়দার আলী দায়িত্বে ছিলেন ১ বছর ৭ মাস ২১ দিন (মোট ৫৯৮ দিন)। আর বর্তমানে ড. এম.এম শরীফুল করীম দায়িত্ব পালন করছেন।
তথ্য সূত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি থেকে কম সময় উপাচার্যদের মেয়াদ ছিল ড. আমির হোসেন খানের, তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্বে মোট ৪ বছর (১৪৬০ দিন)। তার সমান সময়ই দায়িত্ব পালন করেন ড. মো. আলী আশরাফ ৪ বছর (১৪৬০ দিন)। এরপর তৃতীয় সর্বোচ্চ সময় দায়িত্বে ছিলেন ড. এমরান কবির চৌধুরী প্রায় ৩ বছর ১ মাস (১১২৬ দিন)। তারপর ড. এ.এফ.এম আব্দুল মঈন প্রায় ২ বছর ৬ মাস ১৯ দিন (৯৩১ দিন), এবং এর কাছাকাছি ছিলেন ড. গোলাম মাওলা প্রায় ২ বছর (৭৩৫ দিন)। এরপর ড. মো. হায়দার আলী ১ বছর ৭ মাস ২১ দিন (৫৯৮ দিন)। ড. এইচ এম জেহাদুল করিম ১ বছর ১ মাস ২ দিন (৩৯৮ দিন)। আর সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. এম. জুলফিকার আলী মোট ৮০ দিন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়াদ সাধারণত ৪ বছর হয়ে থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি চাইলে যে কোনো সময় উপাচার্যকে অপসারণ করতে পারেন।
উপাচার্যের এমন বদলি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন একাধিক শিক্ষক মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেও পড়েছে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বড় ধরনের জাতীয় ঘটনার পর প্রশাসনিক রদবদল হয়েছে, যার প্রভাব উপাচার্য পদেও দেখা গেছে। তাদের মতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপাচার্যের পূর্ণ মেয়াদ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
