গেস্টরুম-গণরুম নির্যাতনের স্মৃতি সংরক্ষণে ডাকসুর কর্মসূচি ঘোষণা

গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল ৩টায় ডাকসু প্রাঙ্গণে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ মুক্তি লাভ করেছিল। সেই মুক্তির ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থায়ীভাবে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্টরুম ও গণরুম ছিল আতঙ্কের নাম।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির সূচনা হয়। কারা এ সংস্কৃতি চালু করেছিল, সে বিষয়ে সবাই অবগত। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও এই সংস্কৃতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং অনেকের মনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে—নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও গেস্টরুম-গণরুম ফিরে আসবে কি না।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনের পর যারা গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি চালু করেছিল, সেই অপশক্তি যেন ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কার্যক্রম চালু করতে না পারে, সে জন্য এর ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করে নবাগত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। যাতে তারা জানতে পারে কীভাবে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, কীভাবে এটি পরিচালিত হতো এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন সংঘটিত হতো।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন কোনো নবাগত শিক্ষার্থীকে গিনিপিগ বানিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা না যায়, সেটিই নিশ্চিত করতে চায় ডাকসু।