logo

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাঁধে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাঁধে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা

আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের স্থগিত হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই পরীক্ষা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। 

তবে এই অসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে, তাদের নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি এখন আগের বছরের অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এই দ্বিমুখী পাঠ্যসূচির চাপে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭ হাজার শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণিতে সর্বশেষ বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল ২০২২ সালে। এর আগে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই নিয়ম চালু থাকলেও ২০০৯ সালে পিএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আলাদাভাবে বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। তখন পিএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। দীর্ঘ সময় পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের শেষেই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আদালতের আদেশে তা পিছিয়ে যায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই মেধা যাচাইমূলক পরীক্ষা চলবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এই বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হলেও সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ১১টি কেন্দ্রে মোট ৭ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৯০ জন, শিবগঞ্জের দুটি কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৫৭, গোমস্তাপুরের একটি কেন্দ্রে ৯৫৭, নাচোলের দুটি কেন্দ্রে ৫৭৭ এবং ভোলাহাট উপজেলার একটি কেন্দ্রে ১০০০ পরীক্ষার্থী বসবে। 

কেন্দ্রভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কামাল উদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩৫ জন, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৩১, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২৪ এবং হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে। 

শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসায় ১ হাজার ২৩৫ জন ও শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাই স্কুলে ১ হাজার ১২৩ জন পরীক্ষার্থী বসবে। এ ছাড়া গোমস্তাপুরের রহনপুর আহম্মদী বেগম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৫৭ জন, নাচোলের মুন্সী হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১২ জন ও নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬৫ জন এবং ভোলাহাট উপজেলার রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশনে ৪৭৮ জন বৃত্তি পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

শিক্ষার এই বিশেষ পর্যায়ে এসে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ চরমে। অভিভাবক মোমিনুল ইসলাম ও সানাউল্লাহ বলেন, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই, শিখনসূচি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে ভিন্ন দুই শ্রেণির পড়া একসঙ্গে সামাল দেওয়া শিশুদের জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইমুনা খাতুন বলেন, বর্তমানে আমাদের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, এর মধ্যে আবার পঞ্চম শ্রেণির পুরোনো পড়া ঝালাই করা তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, আদালতে রিটের কারণে নির্ধারিত সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় এক মাস সময় পাবে। শিক্ষার্থীরা একটু বাড়তি পরিশ্রম করলে দুটি পরীক্ষাতেই ভালো ফলাফল করতে পারবে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কোনো শিখন ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেয়নি মন্ত্রণালয়। তারা নিজ নিজ বাড়িতেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরীক্ষার পরিকল্পনা সরকার করেছে, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করব।