জাবি শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংসদ পরিবার। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন কেন্দ্রীয় গন্থাগারের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এবং সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সোহাগী সামিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহানকে বর্বরভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত দেড় বছরে অনেকগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, অনেকগুলো নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের পর অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর দৃষ্টান্তমূলক কোনো বিচার হয়নি। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যদি এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার না করা হয়, তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট থানা ঘেরাও করে তাদের ততক্ষণ অবরোধ করে রাখব, যতক্ষণ না পর্যন্ত এই বিচার নিষ্পত্তি হয়।
জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, জাবি শিক্ষার্থী শারমিন জাহানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, কিন্তু কীভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পলিসি নেই। এ ছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি এরকম অপরাধপ্রবণতা বাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম ফ্যাক্টর। সরকারের কাছে আমাদের এখন দাবি হলো শারমিন হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং সারা দেশে সহিংসতা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতু বলেন, শারমীন জাহান হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভূক্তভোগীর পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জাকসু এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় থাকেন, তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।