ঢাবিতে ৬ সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, ডাকসুর নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দিনে ছয় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে ও মধ্যরাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা ওই সাংবাদিকদের হেনস্তা করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন ডাকসু নেতারা।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় বিজয় একাত্তর হলের সামনে প্রাইম বাংলাদেশের ঢাবি প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাতকে হেনস্তা করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আরও দুই সদস্য দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান এবং নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলাম হেনস্তার শিকার হন।
মধ্যরাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সংবাদ সংগ্রহকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সভাপতি ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মানজুর হোসাইন মাহি, অর্থ সম্পাদক ও ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন এবং সদস্য সজীব আহমেদ হেনস্তার শিকার হন।
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মহিউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন কর্তৃক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপতৎপরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন কর্মসূচি ঘোষিত হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিজয় একাত্তর হল এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে পৃথক দুটি ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।
ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা বলেন, এ ধরনের সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার পর থেকে ক্যাম্পাসে যে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশ ছিল, এ ধরনের ঘটনা সেই পরিবেশ বিনষ্ট করে একক কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডাকসু এ ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।