সুষ্ঠু তদন্ত চান ঢাবি শিক্ষক/‘নিকাব খুলতে বলিনি, কথা বিকৃত করা হয়েছে’

শ্রেণিকক্ষে নেকাব পরিহিত এক ছাত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের জেরে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই কোর্স থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব। সম্পূর্ণ ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তাসনিম সিরাজ জানান, গত ৭ অক্টোবর মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারের একটি ক্লাসে ঘটনাটির সূত্রপাত।
তিনি বলেন, ‘সেদিন ক্লাসে এক নারী শিক্ষার্থীর চোখসহ পুরো মুখমণ্ডল ঢাকা থাকায় তাকে শনাক্ত করতে এবং সরাসরি যোগাযোগে আমার সমস্যা হচ্ছিল। কেবল পাঠদানের সুবিধার্থে ও কার্যকর যোগাযোগের খাতিরেই আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। আমি তাকে পোশাক পরিবর্তন, নেকাব খোলা বা ক্লাস ত্যাগের কোনো নির্দেশ দিইনি; বরং চোখ ঢাকা থাকায় আমার অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলাম।’
তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৪ বছরের শিক্ষাজীবনে তিনি সর্বদা ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলেছেন। তাই কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাকে অবমাননা করার প্রশ্নই ওঠে না।
তাসনিম সিরাজ মাহবুব জানান, ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি দুঃখপ্রকাশ করার জন্য করিডোরে দীর্ঘ ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন এবং বারবার খবর পাঠান। কিন্তু ছাত্রীটি অন্য কক্ষে থাকলেও দেখা করতে আসেননি। এরপর পরিবারের এক সদস্যের জরুরি অস্ত্রোপচারের কারণে শিক্ষককে দ্রুত হাসপাতালে ছুটতে হয়।
তাসনিম সিরাজের অভিযোগ, তার বক্তব্য সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে প্রচার করে আসল প্রেক্ষাপট আড়াল করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইংরেজি বিভাগ কোনো বক্তব্য না শুনেই আমার সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই এমন একতরফা সিদ্ধান্তে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বেনামি ফোন ও ই-মেইলে প্রতিনিয়ত হুমকি পাচ্ছেন জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী- উভয়ের জন্যই নিরাপদ ও সম্মানজনক হওয়া উচিত।’
এ হয়রানি বন্ধে এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি কর্তৃপক্ষের আইনি ও নীতিগত সহযোগিতা চেয়েছেন।
নিকাব পরিহিত ওই ছাত্রীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ইংরেজি বিভাগের জরুরি অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে তার কোর্সগুলো থেকে অব্যাহতি দিয়ে তা অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হয়।
