logo
Advertisement

পাঁচ দাবিতে পিএসসি সংস্কার জোটের আলটিমেটাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
পাঁচ দাবিতে পিএসসি সংস্কার জোটের আলটিমেটাম

বিসিএস চূড়ান্ত ফলাফলে রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সংস্কার জোট। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ার দেন তারা। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল, সরকারি নিয়োগে বৈষম্য দূর করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু আন্দোলনের পরও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। 

বর্তমান পিএসসির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, সংবিধানের ১৯, ২৭ ও ২৯ অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের কথা থাকলেও বর্তমান পিএসসি তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একেকটি বিসিএসে ভিন্ন নীতি অনুসরণের মাধ্যমে প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ৪৪তম বিসিএসে রিপিট ক্যাডার বাদ দিয়ে তিনবার ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ৪৫তম বিসিএসে একই ধরনের সংশোধনে অনীহা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে একই প্রার্থীকে একই ক্যাডারে একাধিকবার সুপারিশ করা হচ্ছে, যা বেকার মেধাবীদের সঙ্গে উপহাসের শামিল।

তারা অভিযোগ করেন, ৪০তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে ৩৬৫৭ জন, ৪১তম বিসিএস থেকে ৩১৬৪ জন এবং ৪৪তম বিসিএস থেকে ৪১৩৬ জনকে সুপারিশ করা হলেও পরবর্তী বিসিএসগুলোতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৪৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদ শূন্য এবং ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসে নামমাত্র পদ বরাদ্দ দেওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।

দেশে সরকারি চাকরিতে লক্ষাধিক পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও পিএসসি প্রতিটি ফলাফলে পদ সংকোচনের নীতি অনুসরণ করছে, বলছেন বক্তারা। 

 

যেখানে যোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন, সেখানে ‘যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পদ ফাঁকা’ রাখার সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

তাদের ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি হলো—

১. বিসিএস চূড়ান্ত ফলাফলে রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধ এবং ৪৫তম ও ৪৯তম বিসিএসে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ। ২. শূন্য পদের বিপরীতে কমপক্ষে ৫-৭ গুণ ভাইভা অংশগ্রহণের সুযোগ এবং ৪৭তম বিসিএস লিখিত ফল সংশোধন। ৩. প্রতিটি জেনারেল বিসিএসে পর্যাপ্ত নন-ক্যাডার পদ সংযোজন। ৪. ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার বিধি বাতিল করে ২০১৪ সালের বিধিমালা পুনর্বহাল। ৫. বিসিএস লিখিত পরীক্ষার আগে যৌক্তিক সময় দিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিষয় :