নতুন জামা-জুতা-ব্যাগ কবে পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা?

নির্ধারিত সময়ের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও বিনামূল্যের নতুন স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ পায়নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কবে নাগাদ এগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
নিজ মন্ত্রণালয়ে গত এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চলতি বছরের জুলাই থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ পাবে। আট বিভাগের ২৫ উপজেলা ও থানার সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এসব উপকরণ দেওয়ার মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প শুরু হবে।
জুলাই, আগস্ট পেরিয়ে সেপ্টেম্বরও পার হতে চলেছে। তবে এখনও বিনামূল্যের জামা-জুতা-ব্যাগ পায়নি শিশুরা। কবে পাবে তা-ও কারো জানা নেই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করি। কবে থেকে শিক্ষার্থীদের জামা-জুতা-ব্যাগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে সে ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকি মাত্র।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা সরাসরি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এসব সামগ্রী দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো সব পণ্য প্রত্যাশিত পরিমাণে পাওয়া যায়নি। তাই বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু হলে সব শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জামা, জুতা ও ব্যাগ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী এ পরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে উত্থাপন করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএসআর তহবিল থেকে উপহার হিসেবে বেশকিছু সামগ্রী এসে পৌঁছেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এগুলো মজুত করা হচ্ছে।
প্রায় এক লাখ পাটের ব্যাগ দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। দুই লাখের বেশি জামা এসেছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএ থেকে। এছাড়া প্রায় ৬৫ হাজার জোড়া এসেছে বাটা, বসুন্ধরা গ্রুপ, এপেক্স, জাম্প কেডস্ ও আরএফএল থেকে।
