শিক্ষকদের বেতন নিয়ে বড় সুখবর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বা নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই জুলাইয়ে নতুন অর্থবছর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির আভাস মিলেছে সরকারের পক্ষ থেকে। এই পে-স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনার ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাস্তবায়ন হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে-স্কেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কী হারে বা কতটা বাড়ছে, তা এখনও পরিষ্কার না হলেও প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে।
জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে প্রায় দ্বিগুণ করার আলোচনা চলছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। শুধু শিক্ষকই নন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্যও তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় টিফিন ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
নবম পে কমিশন ২০টি স্তরে (গ্রেড) বেমনকাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকে আমরা নতুন পে স্কেল চালু করছি। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখা নিয়ে এখন কাজ চলছে।’
সরকারি চাকরিজীবীরা শুরু থেকেই নতুন বেতনকাঠামো আশা করলেও, সরকার চাচ্ছে আগামী তিন বছরে এই বেতন কাঠামোকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে।
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আসন্ন অর্থবছরে সুপারিশ করা মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। পরের বছর বাকি অংশ, আর তৃতীয় বছরে দুই ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ করবে সরকার।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে কার্যকর হয়েছিল। সেবার ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং এক বছর পর নতুন হারে ভাতা কার্যকর করা হয়।
পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হলে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে শুধু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য লাগবে ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিশোধ করা হবে।
চলতি বছরই নবম পে কমিশন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এ জন্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রেখেছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় বিষয়টি আগামী অর্থবছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়।
