logo

প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাড়বে কর্মসংস্থান, যেসব জেলায় অগ্রাধিকার

প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাড়বে কর্মসংস্থান, যেসব জেলায় অগ্রাধিকার
ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়ন করতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিশেষ করে যেসব জেলার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, সেসব জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ অর্থায়নের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত দেশের ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড এক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রামের’ জন্য বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ শুক্রবার এই অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। এটি বাংলাদেশ সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিকে সহায়তা করবে। এর আওতায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশু উন্নত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ইউনিফর্মের সুবিধা পাবে।

কর্মসূচিটির দলনেতা ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তাশমিনা রহমান বলেন, উন্নত কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু যেন শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কর্মসূচিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, সেসব জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসূচির আওতায় শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দ করা বাজেটের জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্তের ব্যবহার আরও জোরদার করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার দেশ বাংলাদেশে সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মাদরাসা মিলিয়ে ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কর্মসূচির আওতায় মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা অর্জনের জন্য বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হবে। এ প্যাকেজে শিক্ষার্থীদের উপযোগী শিক্ষাসামগ্রী, সুনির্দিষ্ট পাঠপরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন আনা যায়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক পরিচালক জ্যঁ পেসম বলেন, দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের শিশুদের স্কুলে পাঠাতে সহায়তা করেছে। এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং স্কুলে টিকে থাকতে সাহায্য করবে।

বিশ্বব্যাংক আশা করছে, নতুন এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও উন্নত বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মসূচিটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এই কর্মসূচির জন্য অর্থায়ন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আওতাধীন নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে। এ অর্থায়নের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সময় হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

নাছির আহমেদ

সম্পাদনা

নাছির আহমেদ

অ্যাসিস্ট্যান্ট নিউজ এডিটর | এশিয়া পোস্ট