ছাত্রলীগ করার অভিযোগে ঢাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাহিদ খান পাভেল নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে পাভেলের বিরুদ্ধে।
রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পাভেলের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে মারধর করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পাভেল। থাকেন ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোমবার পাভেল বলেন, রোববার দিবাগত রাত ৩টার পর বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করে। আমি তাদের বলেছি, দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।
তিনি আরও বলেন, ওরা আমাকে ইট, বেল্ট, মোটরসাইকেলের লক দিয়ে মেরেছে। কয়েক দফায় আমাকে যাচ্ছেতাইভাবে মেরেছে। থানার ভেতর যখন ওরা আমাকে মেরেছে, তখন পুলিশ আমাকে সেভ করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ বলেন, পাভেল জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছে। বিভাগ আর হল—দুই জায়গা থেকে ওকে বয়কট করা হয়েছে। আগেও শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে থানায় দিয়েছিল। ক্যাম্পাসে আর আসবে না, এ শর্তে রাহিদের মা-বাবা নিয়ে গিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ইদানীং পাভেল ক্যাম্পাসে এসে প্রোগ্রাম করে, পোস্টারিং করেছে। আজকে ওকে ধরার পর ফোন চেক করতে গেলে, উল্টো সে রিঅ্যাক্ট করে। পরে আটক করে থানায় দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে পাভেল বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। নিয়মিত ক্লাস করি। কোনো দলের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা পাভেলকে পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। সে এখন আমাদের হেফাজতে। তাকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনা শুনেছি, তবে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।