logo

নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, ছাত্রীসংস্থার স্মারকলিপি

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, ছাত্রীসংস্থার স্মারকলিপি
স্মারকলিপি প্রদান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও ‘সন্ত্রাসী’ অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে ৭ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) বরাবর প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, ‘প্রশাসনকে বলতে চাই, প্রত্যেকটা বিষয়ে তদন্ত কমিটির নামে হাজার হাজার কমিটি না করে আমরা এর সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন চাই। আমরা এখানে কোনো বিশেষ সুবিধা চাইতে আসিনি। আমরা কোনো অনুগ্রহ চাই না। বৈধ অধিকারের দাবিতে আমরা বারবার প্রতিবাদ জানাতে চাই না। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো শিক্ষক কটূক্তি করলে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সুস্পষ্টভাবে অ্যাকাডেমিক নীতিমালায় উল্লেখ করতে হবে।

সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ‘২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আশা করেছিলাম, সব সেক্টরে সমতা থাকবে, ন্যায্যতা থাকবে, সবার অংশগ্রহণ থাকবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে খেয়াল করেছি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যে ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়েছিল, সেই ক্যাম্পাসেই আবার ফ্যাসিস্টের পুরোনো সূত্র ধরে হিজাব-নিকাবকে টার্গেট করে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা এ ঘৃণ্য ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনে বক্তারা নিক্বাব ও হিজাব পরিধান একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের হেনস্তা, কটাক্ষ ও হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুস্পষ্ট অ্যাকাডেমিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, ‘এমন ঘটনা শুধু নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অপমানজনক ঘটনা। যে শিক্ষক এ হেনস্তার জন্য দায়ী, তাদেরই উদারতার গল্প শোনাতে দেখা যায়। তাদের উদারতা, ফেমিনিজম কেন যেন হিজাব-নিকাবের কাছেই থমকে যায়। হিজাব, নিকাব একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অধিকার। এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই মেনে নেবে না।’

সুমাইয়া নুসরাত মিম বলেন, ‘একজন শিক্ষিকা, যিনি আমাদের অভিভাবক, আমাদের আস্থার জায়গা, আমাদের ভরসার জায়গা হবেন, সেই শিক্ষিকাই যখন একজন শিক্ষার্থীকে পোশাকের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, ক্লাস থেকে বের করে দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন। এটি কখনোই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’