logo

শিবির জকসুকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করছে: ছাত্রদল

শিবির জকসুকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করছে: ছাত্রদল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) প্ল্যাটফর্মকে ছাত্রশিবির দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল সমর্থিত জকসু প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানান তারা।

ছাত্রদল সমর্থিত প্রতিনিধিরা অভিযোগ তোলেন, ছাত্রশিবিরের নেতারা জকসুকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বদলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচিত ছাত্রসংসদের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এ ছাড়া জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করা। কোনোভাবেই দলীয় স্বার্থে এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত নয়।

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী ‎জকসুর পাঠাগার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব বলেন, জকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম হলেও নির্বাচনের পর থেকে এটি দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ মিছিলও আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই আয়োজন করা হয়েছে। আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কিছুই জানানো হয় না। তারা একতরফাভাবে গতকালও (বৃহস্পতিবার) একটি বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

রিয়াসাল রাকিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জকসুর ব্যানারে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা বন্ধ না হলে তারা পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, জকসু একটি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্ল্যাটফর্ম। এর ব্যানার ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় বক্তব্য দেওয়া অনুচিত। শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব জকসুর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জকসুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হাসান ও নির্বাহী সদস্য সাদমান সাম্য।

এদিকে গতকাল ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জকসুর বিক্ষোভ মিছিল বের করাকে ‘শিবিরের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা’ বোঝানো ভুল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জকসুর স্বতন্ত্র কার্যনির্বাহী পদে বিজয়ী জাহিদ হাসান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যাম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, জোবায়ের, মোসাদ্দেক জুলাই যোদ্ধা। তাদের কথায় অজস্র অসংগতি থাকতে পারে, তাদের সবার পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু গতকাল তো তারা থানায় গিয়েছিল শিক্ষার্থীদের জন্য। এই অতর্কিত হামলাকে আপনি সমর্থন দেবেন? জুলাই যুদ্ধে সকল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী একসঙ্গে খুনি হাসিনার বিপক্ষে লড়াই করেছে। জোবায়ের-মোসাদ্দেকের ওপরে হামলা চালানো মানে জুলাইয়ের ওপরে হামলা। ছাত্রদলের কোনো কর্মী, যে জুলাইয়ে রাজপথে ছিল তার ওপরে হামলা হলেও আমার বক্তব্য একই থাকবে।

জাহিদ প্রশ্ন তোলেন, জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের বিজয়ীরা যদি গতকালকের ঘটনাকে উপেক্ষা করতে চান, তার মানে কি গতকালকের হামলাকে তারা স্বাভাবিক মনে করল? কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, সেটা পরের লাইনের আলাপ। কিন্তু প্রথম লাইনের জিজ্ঞাসা, গতকালকের হামলা হওয়াটা কি ঠিক না অপরাধ? যদি এই হামলা করাটা অপরাধ হয়, তাহলে কেন আপনারা এইটার ব্যাপারে কোনো আলাপ দিলেন না? গতকাল জোবায়েরকে তো সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট রাকিব ভাই অবধি গাড়িতে তুলে দিলেন। তাহলে আপনারা এই বিরুদ্ধাচরণ কেন করছেন?

শেখ হাসিনা সরকারের সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতি করেছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘গুপ্ত’ শব্দটাকে কেন খারাপভাবে দেখা হয় আমার জানা নাই। আপনি যখন জানতে পারেন যে এই মুহুর্তে প্রকাশ্যে থাকলে ক্ষতি হতে পারে, তখন আপনি অবশ্যই নিজেকে হাইড (লুকিয়ে) রাখবেন। এইটা পলিটিক্সে খুবই নরমাল হিসেব। এই গুপ্ত রাজনীতি শিবির, ছাত্রদল সবাই করেছে ফ্যাসিস্ট আমলে। কোনো ছাত্র সংগঠনই অস্বীকার করতে পারবে না। 

বিপক্ষ দলের গঠনমূলক সমালোচনা এবং শিক্ষার্থী সংসদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, সমালোচনা করেন, কিন্তু কেউ কারোর গায়ে হাত তুইলেন না। তাইলে আবার জুলাই আসবে। জুলাইয়ের সময়ে ছাত্রদল-শিবির-বাম ইত্যাদি কোনো আলাদা পরিচয়ে কেউ রাজপথে থাকে নাই। সবাই সবার সঙ্গে মিলেমিশেই মাঠে ছিল। তাইলে এখন বিভেদ করছেন কেন? জকসু হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ। আমার দুই প্যানেলের কাছেই অনুরোধ যে এই প্ল্যাটফর্মের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট কইরেন না। অন্যায় হইলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েন।