অনশনে বসলেন ৪৫বিসিএসে গেজেট বঞ্চিত ৫৬ প্রার্থী

৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট বঞ্চিত হওয়া ৫৬ চাকরি প্রার্থী অনশন শুরু করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) থেকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন।
গেজেট বঞ্চিত প্রার্থীরা জানান, ২০২২ সালে শুরু হওয়া বিসিএস এর এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে তিন লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮০৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর প্রায় ১১ মাস পর মেডিকেল ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে ১৭০২ জনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয় ১০৫ জনকে, যার মধ্যে ৪৮ জন স্বেচ্ছায় মেডিকেলে অংশ নেননি। কিন্তু ৫৬ জন চাকরিপ্রার্থী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও চূড়ান্তভাবে গেজেট বঞ্চিত হন।
তারা বলেন, আমরা জানি না কী কারণে গেজেট বঞ্চিত করা হয়েছে আমাদের। কী অপরাধ আমাদের, সেটিও জানি না। আমাদের কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো মামলা নেই।
কৃষি ক্যাডারে প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট বঞ্চিত মো. হাবিবুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, কিছুদিন আগে ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে অনেকেই বাদ পড়েছিলেন। আমরা দেখেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্বরিত নির্দেশনা অনুযায়ী খুব দ্রুত সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করে জাতির সামনে দৃষ্টান্ত তৈরি করা হয়। আমরা ৪৫তম পরীক্ষার্থীরা যারা চার বছর অপেক্ষা করে পরীক্ষা দিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম। আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার অনেক বেশি আন্তরিক ও মানবিক। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের ৫৬টি পরিবারের ৫৬টি স্বপ্ন।
হাবিবুল ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। সবার জন্য বাংলাদেশে আমাদের অবস্থান কোথায়? আমরা স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই।
ক্যাডারবঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে ক্যাডার বঞ্চিত ৫৬ প্রার্থীর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে বিশ্বাস করি। তা না হলে আমরা যেকোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব, এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।
অনশন থেকে ৪৫তম গেজেট বঞ্চিতদের পাঁচ দাবি
এর মধ্যে রয়েছে, গেজেট বঞ্চিতদের মধ্যে যাদের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, তাদের জন্য অবিলম্বে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করতে হবে; নাগরিক হিসেবে আমরা কোনো বৈষম্যর শিকার হব না, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে; অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে আমাদেরও ১ নভেম্বর যোগদানের সুযোগ দিতে হবে।
