জুনিয়র বৃত্তির ফল এ সপ্তাহেই, পাবেন ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ফল ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এবার মোট ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হবে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জন পাবে ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি এবং বাকি ৩১ হাজার ৫০০ জনকে দেওয়া হবে সাধারণ বৃত্তি।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৫ জানুয়ারি শেষ হয় এই বৃত্তি পরীক্ষা। ২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ করছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। কোটা বণ্টনের নির্দেশ ইতোমধ্যে হাতে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত গেজেট আকারে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার লক্ষ্যে কোটা নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
কোটা বণ্টন অনুযায়ী, বিভিন্ন বোর্ডে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৬৩৫ জন মেধাবৃত্তি ও ৭ হাজার ৭৯০ জন সাধারণ বৃত্তি পাবে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ৯৬৭ জন মেধাবৃত্তি ও ২ হাজার ৭৩ জন সাধারণ বৃত্তি, রাজশাহী বোর্ডে ১ হাজার ৯২৬ জন মেধাবৃত্তি ও ৪ হাজার ১২৮ জন সাধারণ বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৬৭৭ জন মেধাবৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৯৩ জন সাধারণ বৃত্তি পাবে।
এছাড়া সিলেট বোর্ডে ৯৪৮ জন মেধাবৃত্তি ও ২ হাজার ৩০ জন সাধারণ বৃত্তি, বরিশাল বোর্ডে ৮৭৩ জন মেধাবৃত্তি ও ১ হাজার ৮৭১ জন সাধারণ বৃত্তি নির্ধারিত হয়েছে। যশোর বোর্ডে ১ হাজার ৬৬২ জন মেধাবৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৬১ জন সাধারণ বৃত্তি, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ২১০ জন মেধাবৃত্তি ও ২ হাজার ৫৯৩ জন সাধারণ বৃত্তি এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৮০২ জন মেধাবৃত্তি ও ৩ হাজার ৮৬১ জন সাধারণ বৃত্তির জন্য মনোনীত হবে।
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যসূচির আলোকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই পাঁচ বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পৃথক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় একসঙ্গে নেওয়া হয়। মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ছিল ১০০ নম্বর করে। বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ছিল ৫০ নম্বর করে। প্রতিটি পরীক্ষার সময় নির্ধারিত ছিল তিন ঘণ্টা।
জানা গেছে, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে এককালীন ৫৬০ ও প্রতি মাসে ৪৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবেন। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে ৩৫০ ও মাসে ৩০০ টাকা পাবেন। আগামী দুই বছর তারা এ সুবিধা পাবেন।