নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে আজিজী বললেন, আন্দোলন দমাতে পাগল হয়ে গেছে

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে এবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে চাকরি নেওয়া ছাড়াও একাধিক বেসরকারি মাদ্রাসায় চাকরিতে দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়।
দেলাওয়ার হোসেন আজিজী ময়মনসিংহের কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে শিক্ষকদের ৪ নভেম্বরের আন্দোলন দমাতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক তার প্রতিষ্ঠানে একের পর এক কর্মকর্তাকে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আজিজী। তিনি বলেছেন, এরই অংশ হিসেবে তাকে ব্যস্ত রাখতে এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদকের কাছে আজিজী অভিযোগ করেন, আন্দোলন ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের আন্দোলন দমাতে পাগল হয়ে গেছে।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের চিঠিতে আজিজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. চাঁদ মিয়াকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মো. বুলবুল আহমেদ এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী পরিচালক বেনজীর আহমেদকে।
আজিজী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে 'মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সামিউল ইসলাম প্রামাণিক শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাকে অধিদপ্তর থেকে প্রত্যাহার করতে হবে' লিখে পোস্ট করেছিলাম। রাতে দেখলাম তার স্বাক্ষরেই আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির চিঠি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এটি বোঝার কারও বাকি নেই।
তিনি বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ডেকেছি। আর আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি যে আমাকে ব্যস্ত রাখতে আর আন্দোলন ঠেকাতে করা হয়েছে এটি সহজেই বোঝা যায়। এ ছাড়া যে অভিযোগে তদন্ত কমিটি করা হলো তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তিন দফা তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে এই অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি।
এই শিক্ষক নেতা বলেন, ৪ নভেম্বরের কর্মসূচির আগে আমি তদন্ত কমিটিকে কোন ধরনের সহযোগিতা করতে পারব না। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকদের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এটি ঠেকানো যাবে না। সারাদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষক কর্মচারী এতে অংশ নেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নবম পে স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান; অবিলম্বে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করারর দাবিতে ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ডেকেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম।
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই ফোরামের সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের দাবি আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে সরব থাকেন তিনি।
