প্রাথমিকে ৩০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই পদোন্নতির কারণে শূন্য হওয়া ৩০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদও পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই অডিটরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান তিনি।
‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আটকে থাকা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন শুরু হবে। পিটিআইয়ে দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। পদোন্নতির কারণে শূন্য হওয়া ৩০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদও আগামী বছরের মধ্যে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বাজেটের অর্থ ব্যয়কে গুরুত্ব না দিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছে, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অতীতে অবকাঠামোগত বাজেট শেষ করাকেই সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বের হয়ে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি বিদ্যালয়ে ভবন আছে কি না, কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে কিংবা বাজেটের কত অংশ ব্যয় হয়েছে—এসবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে কী শিখছে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ক্রীড়া বিষয়ে পাঠ্যবই চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগির ‘শেয়ার্ড ইউজ পলিসি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী জমি কেনার বিষয়েও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।



